এবার মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির চেষ্টায় রিয়াদ

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৩:৩৮ এএম

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ ও আরব দেশগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে সৌদি আরবের রিয়াদে মিলিত হয়েছেন মিসর ও জর্ডানসহ উপসাগরীয় আরব দেশের নেতারা। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএর বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে শুক্রবার এই অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বড় ভূমিকায় ফিরে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ সৌদি আরব। সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে রিয়াদে আলোচনায় বসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতারা। এবার গাজা বিষয়ে বৈঠকের আয়োজন করল দেশটি। এসপিএ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত। আগামী মাসে মিসরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আরব সম্মেলনের জরুরি বৈঠকে আরব দেশগুলোর যৌথ পদক্ষেপ এবং এ সংক্রান্ত গৃহীত সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়। আগামী ৪ মার্চ এই জরুরি আরব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কিছুদিন আগে, ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর বিস্ময়করভাবে গাজার দখল নেওয়ার ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিলিস্তিনিদের জর্ডান-মিসরে স্থানান্তর করে গাজার পুনর্গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ট্রাম্পের এই ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় সৌদিসহ আরব দেশগুলো। বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা আরব দেশগুলোকে একতাবদ্ধ করলেও, চলমান যুদ্ধ শেষে গাজার শাসনভার কার হাতে থাকবে এবং কীভাবে উপত্যকাটির পুনর্গঠন হবে তা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ উমর করিম এই সম্মেলনকে গত কয়েক দশকের মধ্যে বৃহত্তর আরব বিশ্ব ও ফিলিস্তিনিদের জন্য সবচেয়ে অর্থবহ ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। সৌদি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এক সূত্র এএফপিকে জানান, আরব নেতারা ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার পাল্টা জবাব দিতে এ অঞ্চলের পুনর্নির্মাণ নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইসরায়েল-হামাসের প্রায় দেড় বছরেরও যুদ্ধের পর গাজা উপত্যকা বড় আকারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব মতে, গাজার পুনর্নির্মাণে ৫৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ হবে।

ট্রাম্পের প্রস্তাবের জবাবে গাজা পুনর্গঠনের পাল্টা একটি প্রস্তাবনা এনেছে মিসর। এক সৌদি সূত্র জানায়, বৈঠকে মিসরের পরিকল্পনার একটি সংস্করণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আরব লিগের সম্মেলন এই পরিকল্পনা নিয়ে বৃহৎ পরিসরে আলোচনা করা হবে। সেই সঙ্গে ওই সম্মেলনের আলোচনাসূচিতে এই অনানুষ্ঠানিক বন্ধুত্বপূর্ণ বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো যুক্ত করা হবে।

গাজার পুনর্নির্মাণ

গাজা উপত্যকার পুনর্নির্মাণ বিষয়ে মিসর এখনো তাদের উদ্যোগের বিস্তারিত জানায়নি। তবে সাবেক মিসরীয় কূটনীতিবিদ মোহামেদ হেগাজি বলেন, তিন ধাপে গাজার পুনর্নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। উপত্যকাটির পুনর্নির্মাণে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। প্রথম ধাপের ছয় মাসে মূলত

ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার ও প্রাথমিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর দিকে নজর দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। এই ধাপেই মূলত বড় আকারে পুনর্নির্মাণ শুরু হবে এবং বিভিন্ন সেবা সংস্থার দিকে নজর দেওয়া হবে। তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপে নগর পরিকল্পনা, আবাসন পুনর্নির্মাণ, সব জরুরি সেবা চালু করা এবং দুই রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নে একটি রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে জ্ঞাত এক আরব কূটনীতিবিদ এএফপিকে বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অর্থায়ন।

পশ্চিম তীরে অভিযানের নির্দেশ

তেল আবিবের কাছে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী হামলায় তিনটি খালি বাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিম তীরে বড় ধরনের অভিযান চালাতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের অর্থনৈতিক কেন্দ্রের দক্ষিণে ব্যাট ইয়াম ও হোলন শহরে বৃহস্পতিবার খালি গাড়িতে লাগানো বিস্ফোরক ডিভাইস পরপর বিস্ফোরিত হয়। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং তাৎক্ষণিকভাবে কেউ বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি। ইসরায়েলি কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যাট ইয়ামের একটি ডিপোতে পার্ক করা বাসে দুটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। আর হোলনে তৃতীয় একটি বাসে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। চতুর্থ একটি বাস থেকে অবিস্ফোরিত একটি বিস্ফোরক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশারপাশি দেশ জুড়ে বাস ও ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। এক বিবৃতিতে এই নাশকতাকে ‘বাসে গণবোমা হামলার চেষ্টা বলে বর্ণনা করেছে নেতানিয়াহুর কার্যালয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত