বন্ধু থেকে শত্রু...

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০৮ এএম

সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধ বিষয়ে নিজের নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনকে ছাড়াই রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্কে বড় প্রভাব পড়েছে। গত তিন বছরের যুদ্ধে ইউক্রেনকে সবচেয়ে বেশি অর্থ ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরায় সে ধারাবাহিকতায় ইতি পড়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে আক্রমণাত্নক ভাষায় আক্রমণ ও যুদ্ধের জন্য দায়ী করেছেন ট্রাম্প। আর এই উত্তেজনার জেরে ইউক্রেন সফরত ট্রাম্পের বিশেষ দূত কিথ কেলোগের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠক-পরবর্তী পরিকল্পিত সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র সেরহি নিকিফোরভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন বাতিলের অনুরোধ করা হয়েছিল।

তবে জেলেনস্কি-কেলোগ কেউই তাদের বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। এমনকি ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বাগ্যুদ্ধের পর দুই দেশের সম্পর্কের গতিপথ কী হবে সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। সংবাদ সম্মলনে কথা না বললেও জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক ও সার্বিক সহযোগিতা গঠনমূলক হওয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ সঙ্গে থাকলে শান্তি প্রক্রিয়া আরও নিশ্চিত হতে পারে এবং সেটাই আমাদের লক্ষ্য। এ বিষয়ে ট্রাম্পের দূত কিথ কেলোগের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, দৃশ্যত উত্তেজনা কমানোর উদ্দেশ্যে বৈঠককে ফলপ্রসূ বলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

এদিকে, জেলেনস্কিকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খনিজ চুক্তি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, জেলেনস্কিকে আলোচনা টেবিলে ফিরে এসে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিয়ে চুক্তি করতে হবে। বুধবার ইউক্রেনের বিরল মৃত্তিকা ধাতুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন জেলেনস্কি। এই চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সহায়তার প্রতিদান হিসেবে তারা ইউক্রেনের খনিজ সম্পদের প্রবেশাধিকার চায়। ওয়াল্টজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অগ্রহণযোগ্য অপমান করার পর হোয়াইট হাউজ ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েছে। ইউক্রেনে লিথিয়াম ও টাইটানিয়ামের মতো খনিজের পাশাপাশি প্রচুর কয়লা, গ্যাস, তেল ও ইউরেনিয়ামের মজুদ  রয়েছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিচুক্তি প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে চীন। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজিত জি২০ সম্মেলনে এই ইস্যুতে বেইজিং তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত