যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের প্রধান পদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থী ক্যাশ প্যাটেলের নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে দেশটির কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট। বিবিসি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সিনেটে অনুষ্ঠিত ভোটে ক্যাশ প্যাটেলের পক্ষে ৫১টি ভোট পড়ে। আর বিপক্ষে পড়েছিল ৪৯ ভোট। এর মধ্যে দিয়ে প্রথমবার কোনো ভারতীয় বংশোদ্ভূত কাউকে এফবিআইয়ের পরিচালক পদে দেখা যাবে।
৪৪ বছর বয়সী সাবেক এ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তার এফবিআইতে নিয়োগ অনুমোদন নিয়ে ভোটে ডেমোক্র্যাট সব সিনেটর তার বিপক্ষে অবস্থান নেন। তাদের সঙ্গে জোটেন মধ্যপন্থি দুই রিপাবলিকানও। যদিও বাকি রিপাবলিকানদের ভোটে নিয়োগ চূড়ান্ত হয় প্যাটেলের। রিপাবলিকান সিনেটররা যুক্তি দেন, এফবিআইয়ের ওপর জনগণের আস্থা এখন নিম্নমুখী। ক্যাশ প্যাটেল সংস্থাটির সংস্কার করে পুরনো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করবেন। প্যাটেল দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার কঠোর সমালোচনা করে আসছিলেন। সিনেটের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর সংস্থাটি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
তবে ডেমোক্র্যাটদের আশঙ্কা, ভারতীয় বংশোদ্ভূত নতুন এই এফবিআইপ্রধান ট্রাম্পবিরোধীদের ওপর খড়গহস্ত হতে পারেন। প্যাটেল দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন ডিপ স্টেটের কঠোর সমালোচক। যদিও সিনেটের শুনানিতে তিনি বলেছেন, তার কাছে ডিপ স্টেটের শত্রুদের কোনো তালিকা নেই। প্যাটেল হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ফেডারেল পাবলিক ডিফেন্ডার ও ফেডারেল কৌঁসুলি হিসেবও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদিকে ৫০ বছরের মধ্যে সর্বাধিক কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। এরই মধ্যে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাধ্যতামূলক প্রশাসনিক ছুটিতে থাকা সংস্থাটির রিক্রুটিং ও ডাইভারসিটি বিভাগে কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তারা বরখাস্তের শিকার হবেন বলে জানানো হয়। তবে কর্মীদের এভাবে গণহারে ছাঁটাইয়ে সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে আগামী সোমবার ভার্জিনিয়ার আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
