গ্যাসের দাম দ্বিগুণ হলে চাপে পড়বে অর্থনীতি

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:৩৮ এএম

গ্যাসের দাম দ্বিগুণ হলে অর্থনীতি চাপে পড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এখনকার চ্যালেঞ্জিং সময়ে গ্যাসের দাম দ্বিগুণ করা হলে উৎপাদনমুখী খাতে পণ্য উৎপাদনের ব্যয় বাড়বে। বরং দেশের অর্থনীতি ধরে রাখতে গ্যাসের দাম বর্তমানের চেয়ে কমানো দরকার। একইসঙ্গে কীভাবে দাম কমানো যায় তা নিয়ে গবেষণাও দরকার।

গতকাল রবিবার রাজধানীর ইন্টারকনটিনেন্টাল হোটেলে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ ও ইকোনমিক রিপোর্টারস ফোরাম (ইআরএফ) -এর সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, এক সময় গ্যাস সস্তা ছিল। যে কারণে দেশে শিল্প কারখানার প্রসার ঘটেছিল। কিন্তু এখন আর গ্যাস সস্তা নেই। নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার কথা শোনা যাচ্ছে। এটি করা হলে আমদানিনির্ভরতা বাড়বে। ফলে চাপে পড়বে অর্থনীতি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাসরুর রিয়াজ। প্রধান অতিথি ছিলেন বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ, ফরেন চেম্বারের সভাপতি জাভেদ আখতার, নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিএসআরএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীর আলী হোসাইন প্রমুখ।

সেমিনারে মাসরুর রিয়াজ বলেন, এখনকার চ্যালেঞ্জিং সময়ে গ্যাসের দাম দ্বিগুণ করা হলে উৎপাদনমুখী খাতে পণ্য উৎপাদনের ব্যয় বাড়বে। কমবে প্রতিযোগিতাসক্ষমতা। নতুন বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে সিমেন্ট, ইস্পাত ও সিরামিক খাতে নতুন করে আমদানিনির্ভরতা বাড়বে। ফলে আর্থিক খাতে চাপ পড়বে। আমদানি বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রা বেশি লাগবে। তিনি আরও বলেন, আবার গ্যাসের দাম বাড়লে অনেক শিল্প বন্ধ হবে, তখন মন্দ ঋণ বাড়বে।

বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী বলেন, ‘সস্তা গ্যাসের কারণে দেশে শিল্প কারখানা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নিরাপত্তা দিতে পারছে না। ব্যাংকে সুদের হার বেশি; এনবিআরেও অন্য সমস্যা আছে। আরেক দিকে গ্যাসের দাম বাড়তি; তারপরও চাহিদা অনুযায়ী দিতে পারছে না সরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার নতুন শিল্পের জন্য ১৫ শতাংশ এবং সম্প্রসারণমুখী শিল্পের জন্য ৫০ শতাংশ গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এমন পরিকল্পনার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ; আমরা আর কেউ শিল্প প্রতিষ্ঠান করতে চাই না। তবে বর্তমান শিল্পকে সহায়তা করবেন না, এটা হতে পারে না। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি ধরে রাখতে হলে গ্যাসের দাম বর্তমানের চেয়ে কমানো দরকার।’

বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘গ্যাসের বর্তমান দাম কমানোর উপায় নিয়ে গবেষণা করা দরকার। কমিশন খাওয়ায় জন্য স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কিনতে অস্থির ছিল বিগত সরকারের লোকজন। তারা বিদেশে বসে এখনো কমিশন খাচ্ছে। দাম কমানো না গেলে শিল্প থাকবে না। মূলত আমরা ফেঁসে গেছি।’

বিটিএমএ সভাপতি বলেন, ‘কিছু ব্যাংককে টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক, কারণ ব্যাংকগুলো লুট হয়েছে। ব্যাংকগুলো টিকিয়ে রাখতে টাকা দেওয়া হলেও শিল্প টিকিয়ে রাখার দিকে মনোযোগ নেই। ব্যাংক ঋণের সুদহার ১৮ শতাংশ। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে চলতি মূলধন অর্ধেক কমে গেছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে এতগুলো চিনিকল থাকতেও পাকিস্তান থেকে চিনি আমদানি হচ্ছে, এটা লজ্জাজনক; এই আমদানির কারণে কিন্তু‘ কর্মসংস্থান হবে না। প্রতিদিন একটু একটু করে বিপদ বাড়ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত