আফগানদেরই চায় ইংল্যান্ড

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:০৩ এএম

সংক্ষিপ্ত সময়ের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কোনো দলেরই ভুল করার সুযোগ বেশি একটা নেই। তারপর আবার আপনি যখন তিন ম্যাচের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ হেরে বসে আছেন। এমনই অবস্থা ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তানের। রাওয়ালপিন্ডির গতকালের বৃষ্টি নির্ধারণ করে দিয়েছে লাহোরের আজকের এই ম্যাচের ভাগ্য। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ‘বি’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার ৩ পয়েন্ট হয়ে যাওয়ায় এই ম্যাচে হেরে যাওয়া মানেই আসর থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়া। তাই আসরে টিকে থাকার সমীকরণ মাথায় নিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে দুই দল।

মানসিকভাবে আফগানিস্তানের এগিয়ে থাকার বড় উপলক্ষ ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সবশেষ এই বৈশ্বিক আসরেই তারা মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ডের। তখনকার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে ৬৯ রানের বড় ব্যবধানে বাজিমাত করেছিল আফগানরা। ওই ম্যাচে আফগান ব্যাটাররা বোর্ডে যথেষ্ট রান এনে দেন। আর পরের কাজটুকু সারে তাদের সেরা স্পিন আক্রমণ। ভারতের মতো পাকিস্তানের কন্ডিশনও এবার লড়াইয়ের আগে নিজেদের পক্ষে পাবে আফগানরা। আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদি ওই ম্যাচ থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস সঙ্গে করেই আজ নতুন দিনে আরেকবার ইংলিশদের হারানোর ব্যাপারে প্রত্যয়ী। তবে তার জন্য রান করতে হবে আফগান ব্যাটারদের, যেটা দেখা যায়নি প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ম্যাচে। শাহিদিও মানছেন তাই, ‘শুধু স্পিনাররা আপনাকে ম্যাচ জেতাতে পারবে না। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে আমাদের ব্যাটিং আশানুরূপ হয়নি। তবুও আমাদের ব্যাটারদের ওপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে। এই কন্ডিশনে আমাদের ব্যাটসম্যানরা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে।’

এখনকার আধুনিক ক্রিকেটেও সাড়ে ৩০০’র বেশি রান হরহামেশা তাড়া করে যেতা সম্ভব হয় না, বিশেষ করে আইসিসি আসরগুলোর মতো বড় জায়গা। কিন্তু এ কাজটাই প্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়া করে বসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সঙ্গে রয়েছে আফগানদের কাছে বিশ্বকাপে হারের স্মৃতি। এত কিছু মিলিয়ে মানসিকভাবে নেতিবাচক দিকেই থাকার কথা ইংল্যান্ডের। রাওয়ালপিন্ডির মতো বৃষ্টির সম্ভাবনা লাহোরের ম্যাচে নেই। তবে আসরের বাকি থাকা দুটো ম্যাচই এখন জস বাটলারের দলের কাছে ফাইনালের মতো। ব্রাইডন কার্সের জায়গায় দলে রেহান আহমেদের অন্তর্ভুক্তি স্পিনে শক্তিশালী করেছে ইংল্যান্ডকে। আসরের আগে ব্রিটিশ রাজনীতিকরা চেয়েছিলেন আফগানদের বিপক্ষে এ ম্যাচটি বয়কট করতে, ইসিবি তাতে অবশ্য সাড়া দেয়নি। তবুও এই ম্যাচটিই এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ইংলিশদের টিকে থাকার একমাত্র উপায়।

কাগজে-কলমে ইংল্যান্ড-আফগানিস্তান ম্যাচে ফেভারিট খুঁজে নেওয়াটা দুরূহ। অতীত ঐতিহ্য ও ক্রিকেটীয় সামর্থ্য বিচারে তবুও অনেকটা পাল্লা ভারী ইংলিশদের। ইংলিশ পেস আক্রমণের গতির তোপ আফগান ব্যাটিং দুর্গ গুঁড়িয়ে দিতে পূর্ণ সামর্থ্য রাখে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত