বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে যারা নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় কোনো আলোচনা হয়নি। এমনকি সভায় এ বিষয়ে কোনো এজেন্ডাও ছিল না। তবে এ হাসপাতালে ২০২৩ সালের জুন-জুলাই থেকে শুরু হওয়া সব ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ের পর যারা নিয়োগের জন্য পরীক্ষা দিয়েছেন, কিন্তু ফল প্রকাশ হয়নি, তাদের আবার নতুন করে পরীক্ষা দিতে হবে।
গতকাল বুধবার বিএসএমএমইউর নিয়মিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের নিয়োগ ও কেনাকাটার অনিয়ম তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। কমিটি অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে ও সিন্ডিকেট সেই প্রমাণ আমলে নিয়েছে।
সিন্ডিকেট সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানান।
এ সিন্ডিকেট সভা ঘিরে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ও নার্সসহ বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের ভয় কাজ করছিল। বিশেষ করে যারা ২০২৩ সালের আগে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়োগ পান, তাদের চাকরি চলে যেতে পারে, এমন তথ্য প্রচার হতে থাকে। সিন্ডিকেট সভায় কী ধরনের আলোচনা হয়েছে, সে নিয়ে সবার মধ্যে আগ্রহ ও উদ্বেগ কাজ করছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এ ব্যাপারে গোপনীয়তা বজায় রেখেছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যারা ইতিমধ্যেই নিয়োগপ্রাপ্ত আছেন বা কাজ করছেন, তাদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তাদের ব্যাপারে কোনো এজেন্ডাও ছিল না। নতুন নিয়োগের ব্যাপারে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
