গাজীপুরের শ্রীপুরে মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দিনরাত কাজ করছেন অর্ধশত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)। কিন্তু আট মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না তারা। এতে চরম অর্থসংকটে চলছে তাদের সংসার। এ অবস্থায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অফিসে যেতে হচ্ছে তাদের। অনেক সময় ধারদেনা করে পরিবহন খরচ জোগাড় করছেন এই স্বাস্থ্যকর্মীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আট মাস ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় শিশু-সন্তানদের স্কুলের বেতন দিতে পারছেন না অনেকে। বাধ্য হয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন কেউ কেউ। তবে এ নিয়ে দফায় দফায় কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দিলেও তাদের বেতন-ভাতার কোনো সুখবর মিলছে না। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তারা। কেউ কেউ অর্থকষ্টে অফিস করাই প্রায় ছেড়ে দিচ্ছেন। অনেকে ধার করা টাকায় পরিবহন খরচ জোগাড় করে অফিসে যাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, শ্রীপুর উপজেলায় প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ও ওষুধপত্র হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে কাজ করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। উপজেলায় ৫৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে ২১ জন পুরুষ ও ২৯ জন নারী। শুক্রবার বাদে সপ্তাহের বাকি দিনগুলো নিয়মিত ক্লিনিকে সেবাদান করেন তারা। তবে কয়েক মাস ধরে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা না পাওয়ায় চরম অর্থকষ্টে পড়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাদের দাবি, দ্রুত তাদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করে সুষ্ঠু কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।
প্রহলাদপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মোস্তফা কামাল বলেন, ‘চরম অর্থকষ্টে দিন কাটছে। আত্মীয়দের কাছ থেকে ধারদেনা করতে করতে বিরক্ত হয়ে পড়েছি। সবাই মনে করছে এমনি এমনি ধারদেনা করছি। এত দিন ধরে বিনা বেতনে কাজ করছি, তা মানুষ বিশ্বাস করছে না। সন্তানদের আলাদা কোনো চাহিদা পূরণ করতে পারছি না। বাড়ি থেকে পাঁচ কিমি দূরে অফিস করি। মাসে অন্তত ৩ হাজার টাকা পরিবহন খরচ হয়। পরিবহন খরচও ধানদেনা করে জোগাড় করছি।’
চন্নপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘আমাদের জন্য মাত্র ১৬ হাজার টাকা বেতন ধরা হয়েছে। গত বছরের জুনের পর আর বেতন হয়নি। আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে।’
শ্রীপুর উপজেলা সিএইচসিপির সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় চরম অর্থকষ্ট নিয়ে কাজ করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তবে আশা করি, দ্রুত এ দুর্ভোগ কমবে।’
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এসব স্বাস্থ্যকর্মীর বেতন-ভাতা প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা হচ্ছে। তাই একটু সময় লাগছে। আশা করি, শিগগিরই তারা ভালো খবর পাবেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’
