টেকসই বন ও জীবিকা প্রকল্পের আওতায় দুই অর্থবছরে ৮৭২ হেক্টর নার্সারি ও বনায়ন করার পরিকল্পনা থাকলেও অনেক এলাকায় তা করা হয়নি। কোনো কোনো এলাকায় সীমানা নির্ধারণের জন্য সামান্য চারা লাগানো হয়েছে। প্রধান বনসংরক্ষক ও প্রকল্প পরিচালকের মদদে বন মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ে শতকোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ছাড়া বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যের তথ্য মিলেছে। বন ভবনে গত ২৪ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিমের অভিযানে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
অভিযানে প্রাপ্ত তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দুদক টিম গতকাল বুধবার কমিশনে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে।
দুদকের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা বিট এলাকায় ৫১০ হেক্টর বনভূমিতে নতুন বাগান তৈরির জন্য বরাদ্দ হলেও বাস্তবে মাত্র ১৬০ হেক্টরে বনায়ন হয়েছে। একইভাবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ৩৬২ হেক্টর বনায়ন প্রকল্পেও একই ধরনের অনিয়ম হয়েছে। এসব এলাকায় চারা রোপণের নামে বরাদ্দকৃত বড় অংশের টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। অনেক জায়গায় সাইনবোর্ড পাওয়া গেলেও গাছের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অনেক স্থানে পরিচর্যার অভাবে রোপিত চারাগুলোর বেশিরভাগই মারা গেছে। এসব প্রকল্পের অর্থ অপচয় ও আত্মসাতের ক্ষেত্রে প্রধান বনসংরক্ষকের অসহযোগিতা ও নজরদারির অভাব থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রধান বনসংরক্ষক ও প্রকল্প পরিচালকের মদদে বন মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ে শতকোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
