রাজধানীতে পৃথকস্থানে আইনজীবীসহ ৪ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন লালবাগের সাদিয়া আক্তার (২০), চকবাজারের মরিয়ম আক্তার (২২), কলাবাগানের আইনজীবী টাইটাস হিল্লোল (৫৫) ও হাজারীবাগের আকাশ সরদার (২২)। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনাগুলো ঘটে।
রাজধানীর কলাবাগান থানা ক্রিসেন্ট রোড এলাকার একটি বাসায় দুপুর সাড়ে ১২টার গলায় ফাঁস দেন টাইটাস হিল্লোল রেমা (৫৫)। পরে পুলিশ ওই বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
কলাবাগান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নন্দন কুমার দাস বলেন, দুপুরে খবর পেয়ে কলাবাগান ক্রিসেন্ট রোডের বাসার চারতলা থেকে ওই ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদহ উদ্ধার করা হয়। তিনি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিলেন। পরিবার থেকে জানতে পেরেছি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিলেন তিনি। বেশ কিছুদিন ধরে নিয়মিত ঘুমের ওষুধ সেবন করতেন। হতাশা থেকেই গলায় ফাঁস দিয়ে থাকতে পারেন তিনি।
মৃত হিল্লোলের বাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানার রামপুরা গ্রামে। বাবার নাম লিডিং স্টোন রেমা। বর্তমানে কলাবাগান ক্রিসেন্ট রোড স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে থাকতেন।
এদিকে মৃত মরিয়মের মা সেলিনা বেগম জানান, তাদের বাড়ি কুমিল্লার বরুরা থানার পূর্ব আড্ডা বেপারী গ্রামে। বাবার নাম মৃত তাজুল ইসলাম। মরিয়ম চকবাজারের ওয়াটার ওয়ার্কস রোডে একটি বাড়িতে একা ভাড়া থাকতেন এবং একটি বিউটিপার্লারে বিউটিশিয়ানের কাজ করতেন। পুলিশের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, শুক্রবার দুপুরের পর থেকে তার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় এবং তার কোনও সাড়াশব্দ না পাওয়ায় আশপাশের লোকদের সন্দেহ হয়। এরপর পুলিশ দরজা ভেঙে মরিয়মের মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
চকবাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বেবী নাজনীন জানান, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে খবর পেয়ে চকবাজারের বাসা থেকে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে মৃত আকাশ সরদারের ভাই রাশেদ সরদার জানান, তাদের বাড়ি গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার বেতগ্রামে। বাবার নাম রহমত সরদার। রাশেদ নিজে হাজারীবাগ জিগাতলা মিতালী রোডের বাসায় ভাড়া থাকেন। আর আকাশ গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। সেখানে একটি দোকানে কাজ করতেন। গত দুইদিন আগে গ্রাম থেকে ঢাকায় ভাইয়ের বাসায় আসেন।
তিনি আরও জানান, গত ৭ মাস আগে বিয়ে করেন আকাশ। এরপর থেকে মানসিক সমস্যা দেখা দেয় তার। বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। শনিবার বেলা ৩টার দিকে বাসায় গিয়ে তিনি দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে জানালা দিয়ে দেখেন, আকাশ ফ্যানের সাথে রশি পেচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছে। তখন দরজা ভেঙে আকাশকে ঝুলন্ত থেকে নামিয়ে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে মৃত সাদিয়া আক্তারের বোন জামাই নুর হোসেন জানান, তাদের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দাঁতপুর গ্রামে। বর্তমানে লালবাগ শহীদনগর বালুঘাট এলাকায় ভাড়া থাকতেন। আগে একটি ব্যাগ তৈরি করখানায় কাজ করতেন। বর্তমানে বেকার ছিলেন। ৩ বছর আগে বিয়ে করলেও সেটি টিকেনি। নতুন করে এলাকায় একটি ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয় তার। ওই ছেলের সঙ্গে মোবাইলে ঝগড়া হওয়ায় শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসায় ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। দেখতে পেয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাবির শহীদুল্লাহ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি গঠন
অধিনায়ক হিসেবে শেষ ম্যাচ হেরে যা বললেন বাটলার
গুম-খুনের শিকার পরিবারে এবারও ঈদ উপহার দেবেন তারেক রহমান