ফের নির্বাচন দাবি পাকিস্তানে

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৫, ০৫:৪৮ এএম

পাকিস্তানে বিরোধী দলের একটি জোট দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন, ভিন্নমত খর্ব এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে নতুন জাতীয় নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে। তেহরিক-ই-তাহাফুজ-ই-আইন-ই-পাকিস্তান (সংবিধান সুরক্ষা আন্দোলন) ইসলামাবাদে দুদিনের সম্মেলন শেষে সব রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দাবি এবং গত বছরের সংসদীয় নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে। তাদের ভাষ্য, দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সঙ্কটের জন্য ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফলাফল সরাসরি দায়ী।

গত বৃহস্পতিবার সম্মেলনের প্রথম দিন একটি ঘোষণাপত্রে এমন দাবি করে দলটি। সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে হয়, পাকিস্তানের সংসদের কোনো, ‘নৈতিক, রাজনৈতিক বা আইনগত অবস্থান নেই, কারণ এই সংসদ এসেছে একটি জালিয়াতির ভোট থেকে। একটি অবাধ, ন্যায্য এবং স্বচ্ছ নির্বাচনই বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানের এক মাত্র পথ।’ কারাবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তেহরিক-এ-ইনসাফ পার্টির নেতারা, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ওই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবশ্য শরিফের সরকার বিরোধীদলের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা ব্যাহত করার জন্য বিরোধীদের এইসব অভিযোগ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্য ও রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম নেতা জো উইলসন সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ ঘোষণা দেন যে ‘পাকিস্তানে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা’ করার লক্ষ্যে একটি বিলের খসড়া ‘লেখা প্রায় শেষ’ হয়েছে। উইলসনের পোস্টের একদিন পরেই ইসলামাবাদে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উইলসন এবং রিপাবলিকান দলের অন্য হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ সদস্য অগাস্ট ফ্লুগার গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে চিঠি লিখে ‘ইমরান খানকে মুক্ত করার জন্য পাকিস্তানের সামরিক সরকারের’ সঙ্গে আলোচনার করার আহ্বান জানান। ভয়েস অব আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতাদের দাবি সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য পাকিস্তানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত