ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায় শেষ হয়েছে গতকাল শনিবার। পরবর্তী ধাপের কোনো অগ্রগতিও ঘোষণাও নেই কোনো পক্ষ থেকে। যদিও গত শুক্রবার মিসরে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর যুদ্ধবিরতি আরও ছয় সপ্তাহের বাড়ানোর কথা বলেছে ইসরায়েল। তবে গতকাল হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর জন্য প্রস্তাবিত শর্ত বা পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে তারা। গাজায় দ্বিতীয় দফার যুদ্ধবিরতি নিয়ে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না। গতকাল হামাস এক মুখপাত্র হাজেম কাসেম আল-আরাবি টিভিকে জানিয়েছেন এ তথ্য।
আলজাজিরা বলছে, প্রথম ধাপের চুক্তি অনুযায়ী, প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দির বিনিময়ে আট মরদেহসহ ৩৩ ইসরায়েলি জিম্মিকে ফেরত দিতে রাজি হয় হামাস। ১৯ জানুয়ারি শুরু হওয়া ৪২ দিনের এই চুক্তি শেষ হয় গতকাল। এর মধ্যে শুরু হয়েছে রমজান মাস। তাই এবার রমজানও গাজাবাসীর জন্য স্বস্তির হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মিসরের ওই দুটি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে আলজাজিরা বলছে, কায়রোর বৈঠকে প্রথম ধাপের চুক্তির সম্প্রসারণের বিরোধিতা এবং চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায় শুরুর ওপর জোর দিয়েছে হামাস। দ্বিতীয় পর্বের চুক্তিতে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে পারে এমন পদক্ষেপের কথাও বলেছে ফিলিস্তিনি এই স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী।
এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের অবসানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে মিসর ও কাতার উভয় পক্ষের আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে অবিলম্বে চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবেশে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে, ইসরায়েলের দুই সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছিলেন, ইসরায়েল প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ সম্প্রসারণ করতে চায়। সেই সঙ্গে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের বিনিময়ে প্রতি সপ্তাহে তিনজন করে জিম্মির মুক্তি চায় ইসরায়েল। তবে গতকাল জানা গেল, ইসরায়েলের আলোচক দল কায়রো থেকে ফিরে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর হামাসও বলেছে, ইসরায়েল যে শর্ত দিয়েছে, তা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
