রমজান মাস জুড়েই সাংগঠনিক কর্মকা- চালাবে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো। এসব কর্মসূচিতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার দাবি জোরালো করবে দলটি। একই সঙ্গে সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিরোধিতা করে দলটির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করবে। আর এই নিয়ে জনমত গড়ে তোলার কাজটি এগিয়ে নেবে বিএনপি। পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক বিভিন্ন ইউনিটের পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াও পুরোদমে চালানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও রোজার প্রথম দিন রাজধানীর লেডিস ক্লাবে এতিম ও আলেম-ওলামাদের সঙ্গে নিয়ে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি।
জানতে চাইলে দলটির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কেন্দ্রসহ তৃণমূলে ইফতার পার্টির করার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। পাশাপাশি সভা-সেমিনারের আয়োজনও করা হবে। এর মাধ্যমে দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের পক্ষে জনমত তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিরোধিতা করা হবে। কোনো অপশক্তি যাতে ষড়যন্ত্র কিংবা অপতৎপরতা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকেও নেতাকর্মীদের সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশনা রয়েছে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লেডিস ক্লাবে এতিম ও আলেম-ওলামাদের সঙ্গে ইফতার করা ছাড়াও ৬ রমজান বিদেশি কূটনীতিকদের সম্মানে ইফতারের আয়োজন করবে বিএনপি। পেশাজীবী ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে দিনক্ষণ ঠিক করে কেন্দ্রীয়ভাবে ইফতার মাহফিলে আয়োজন করা হবে। এসব কর্মসূচিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন। এর পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি, প্রতিটি থানাভিত্তিক ইফতার পার্টির আয়োজন করবে। মহানগর উত্তর তাদের ইফতার পার্টি ও কর্মশালা ২ মার্চ শেরে-বাংলা নগর থানার মাধ্যমে শুরু হবে। ১৭ মার্চ ক্যান্টনমেন্ট থানায় কর্মশালা ও ইফতার পার্টির মাধ্যমে ২৬টি প্রোগ্রাম শেষ করবে। একইভাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণও প্রায় প্রতিদিন তাদের ইফতার মাহফিলের কর্মসূচি ও কর্মশালা রেখেছে। বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকেও ঢাকায় ইফতার মাহফিলের আয়োজন থাকবে। আর সারা দেশের সাংগঠনিক ১০ বিভাগ, জেলা, থানা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে ইফতার মাহফিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রমজানের আগেই দলের বর্ধিত সভা হওয়ায় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল নেতারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বার্তা পেয়েছেন। ফলে বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের করণীয় রমজানের এই সময়ে আরও পরিষ্কার হবে। তারা বলছেন, এ সময় মাঠে বড় ধরনের সভা-সমাবেশ না থাকলেও মাস জুড়ে নানা কর্মসূচিতে তৎপর থাকবেন তারা। এর মধ্য দিয়েই জাতীয় নির্বাচনের হাওয়া তৈরি হবে। বিশেষ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চান এমন সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় ব্যস্ত সময় কাটাবেন। মাস জুড়েই চলবে সাংগঠনিক শক্তির মহড়া।
জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের আগেই বিএনপি তাদের সাংগঠনিক ইউনিটগুলোতে নতুন কমিটি করতে চাচ্ছে। এই সময়ে যেহেতু মাঠের রাজনীতি কম থাকবে তাই কোথাও কোনো কোন্দল বা দুর্বলতা থাকলে তা দূর করার প্রক্রিয়া চালাবে। এর মধ্য দিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতা দূর হবে বলেও আশাবাদী দায়িত্বপ্রাপ্তরা।
স্থায়ী কমিটির সিনিয়র এক সদস্য জানান, রমজানে সবাই রোজা রাখেন, রাতে ইবাদত-বন্দেগি করেন। তাই মাঠের কর্মসূচি কম রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গত ১৭ বছর বিএনপি ইফতার পার্টিগুলো ঠিকভাবে করতে পারেনি। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে নানাভাবে এসব অনুষ্ঠান প- করা হয়েছে। এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপটে রাজধানীসহ সারা দেশের সব পর্যায়ে ইফতার পার্টির মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততার কাজটি সেরে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা ও সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিরোধিতা করে দলটির অবস্থান পুনর্ব্যক্তের মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলার কাজটি এগিয়ে নিতে বলা হয়েছে নেতাকর্মীদের।
গুম, খুন ও পঙ্গুত্ববরণকারী নেতাকর্মীদের পরিবারকে ঈদ উপহার : এদিকে গতকাল শনিবার ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের গুন্ডা বাহিনী কর্তৃক দলের গুম-খুনের শিকার ও আহতদের পরিবার এবং চব্বিশের গণআন্দোলন চলাকালে শহীদ ও আহতদের পরিবারের মধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঈদ উপহার বিতরণ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন জানান, ‘গুম, খুনের শিকার ও আহতদের পরিবার এবং সম্প্রতি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের বাসায় গিয়ে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ও উপহার পৌঁছে দেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে তারেক রহমানের নির্দেশে গুম, খুনের শিকার ও পঙ্গুত্ববরণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে রমজান মাসের শুরুতেই ঈদ উপহার দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ১২০০ পরিবারের মধ্যে ‘ঈদ উপহার সামগ্রী’ পৌঁছে দেওয়া হয়। এবার এই সংখ্যা আরও বেড়ে প্রায় ১৭০০-১৮০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
