মাদারীপুরে পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক। বুধবার দুপুরে মাদারীপুর সমন্বিত দুদক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আতিক রহমান মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, পদ্মা সেতু প্রকল্পসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে সরকারি খাস জমি, অর্পিত সম্পত্তি ও অন্যের মালিকানাধীন সম্পত্তির ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এই ২৩ জনের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা প্রমথ রঞ্জন ঘটক আগে মাদারীপুর ভূমি অধিগ্রহণ শাখা কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল ঢাকার সহকারী পরিচালক। এছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন, মাদারীপুর ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ার রাসেল আহমেদ ও নাসির উদ্দিন, মাদারীপুরের শিবচরের দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুধাংশ কুমার মন্ডল, স্থানীয় আলো পত্তনদার, আব্দুল মালেক মৃধা, সুরুজ মিয়া, রাজিয়া বেগম, আব্দুল কাদির কাজী, শাহিন বেপারী, কুলসুম বিবি, আতিকুর রহমান, মো. মিলন শেখ, জিল্লুর রহমান, মনির মিয়া, জোসনা বেগম, আখি বেগম, আলম আলী বেপারী, হাছিনা বেগম, আছমা বেগম, আওলাদ হোসেন, ফরিদা বেগম, মতিউর রহমান ও সুধাংশু কুমার মন্ডল।
দুদক সূত্রে জানা যায়, পদ্মা বহুমূখী সেতু প্রকল্পসহ ৫টি এল এ কেসের সরকারি খাস, ভিপি সম্পত্তি ও বিভিন্ন মালিকের সম্পত্তির কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বিল তুলে নেয়া হয়। ২৩টি চেকের বিপরীতে ৯ কোটি ৯৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪ টাকা বিভিন্ন নামে তুলে নেয় অভিযুক্তরা।
তৎকালীন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা প্রমথ রঞ্জন ঘটক এই জালিয়াতির সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পায় দুদক। এছাড়া একই সময় কর্মরত সার্ভেয়ার মো. রাসেল আহম্মেদ ও মো. নাসির উদ্দিনও জড়িত ছিল। স্থানীয় একটি চক্রের সাথে মিলে তারা প্রায় ১০ কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন বলে প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
মাদারীপুর দুদকের উপ-পরিচালক মো. আতিকুর রহমান বলেন, ২০২২ সালে আমরা এ ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশনা পাই। দীর্ঘদিন অনুসন্ধান করে এ ঘটনার তথ্য উপাত্তসহ সংগ্রহ করার পর এ বিষয়ে মামলা করার অনুমোদন পাই। আজ আমরা এ বিষয়টি মামলা হিসেবে রুজু করি। এখন আসামিদের আটক করার জন্য চেষ্টা করব। এ বিষয়ে দ্রুতই অভিযান শুরু করা হবে।
স্ত্রীকে হত্যার সময় দেখে ফেলায় শ্যালিকাকেও হত্যা