মুন্সীগঞ্জে নারীকে হত্যার দায়ে একজনের যাবজ্জীবন

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৫, ০৮:৪২ পিএম

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে এক নারীকে হত্যার দায়ে একজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। আজ বুধবার (৫ মার্চ) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক ড. মো. আলমগীর এ আদেশ দেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেন হাবিবুর রহমান মিজি (৩৫) টঙ্গীবাড়ির উত্তর কুরমিরা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মিজির ছেলে। নিহত নারী সালেহা উদ্দিন ডলি (৩০) একই উপজেলার লাখারন গ্রামে প্রয়াত শফি উদ্দিনের মেয়ে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, অবিবাহিত সালেহা উদ্দিন ডলির মানসিক সমস্যা ছিল। ২০১৮ সালের ২ মার্চ দুপুরে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ওই নারী। বিভিন্ন খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে টঙ্গীবাড়ি থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এ অবস্থায় একই সালের ৭ মার্চ লোক মারফর খবর পেয়ে জেলার লৌহজং উপজেলার নওপাড়া গ্রামের হাজী কালাম মোল্লার বাড়ির ভাড়াটিয়া হাবিবুর রহমান মিজির বসতঘরে ছুটে যান ডলির স্বজনরা। সেখানে বসতঘরের ভেতর লুকিয়ে রাখা এক নারীর লাশের সঙ্গে নিখোঁজ ডলির মিল পান তারা। পরে পুলিশকে খবর দেন তারা। ওইদিন পুলিশ সেখানে পৌঁছে নিখোঁজ নারীর লাশ উদ্ধার ও হাবিবুর রহমান মিজিকে গ্রেপ্তার করেন। পরবর্তীতে নিহত নারীর ভাই নুর মোহাম্মদ দপ্তরি বাদী হয়ে হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগ টঙ্গীবাড়ি থানায় মামলা দায়ের করেন। 

রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আরিফ হোসেন বলেন, ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আসামি হাবিবুর রহমান মিজিকে দোষী সাব্যস্ত করে বিচারক রায় ঘোষণা করেন। একজন অবিবাহিত নারী যার মানসিক সমস্যা রয়েছে। আর সেই মানসিক সমস্যাগ্রস্ত নারীকে গোপনে হত্যা করে নিজের শয়ন কক্ষে রেখে লাশ গোপন করার চেষ্টা করে আসামি। স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে এবং আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। এ রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট পোষণ করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত