অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ নয়। তবে নতুন কর্মসংস্থান কম হচ্ছে। এজন্য কিছু লোকের কষ্ট হচ্ছে, সেটা আমরা স্বীকার করছি। অবশ্য মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় আয়ের বিষয়টি বড়।’
গতকাল বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি ও অর্থনৈতিকবিষয়ক সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘নতুন কর্মসংস্থান কম হচ্ছে। সেটা আমরা একনেকে বলেছি। আর ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো করার বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। সম্প্রতি এসএমই খাতে ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে বলা হয়েছে।’
বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাজার ব্যবস্থা নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। গত বছরের তুলনায় পণ্যের দাম এখন অনেক কম।’ তৈরি পোশাক শিল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গার্মেন্টসে আমরা ক্যাশ ইনসেনটিভ দিচ্ছি। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্টের দোষ আছে, কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রোডাক্টের ডিমান্ড তেমন নেই। সেটার জন্য আমরা চেষ্টা করছি।’
অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বেক্সিমকো একটি ইউনিক চ্যালেঞ্জ। এটি বন্ধ হওয়ার পেছনে তাদের দোষ, করাপশনের দোষ এবং ম্যানেজমেন্টের দোষ রয়েছে। ব্যক্তি খাতের দায়দেনা সরকারের ঘাড়ে চাপানো ঠিক নয়। সরকারের টাকা মানে তো জনগণের টাকা। সেটি তো অন্য কাজে ব্যয় করতে হয় আমাদের। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক বিষয় আছে। তাদের প্রতি আমাদের নজর আছে। আমরা চেষ্টা করছি। বিডার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের কথা হয়েছে তাদের স্থানান্তর করার বিষয়ে।
ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় গৃহীত প্রকল্পগুলো নিয়ে সরকারের অবস্থান কী সে বিষয়ে জানতে চাইলে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ‘এলওসি নিয়ে কথা হয়েছে। এলওসি বিশেষ দেশ থেকে আসে। দেরি হওয়া মানে আমরা প্রকল্পটা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করি, অনেকে বলে বন্ধ করে দিতে। না, সেটা সম্ভব নয়। একটা প্রকল্প হয়েছে, সেটি যে সরকারই করুক না কেন প্রকল্পটি প্রয়োজন। আর প্রকল্পটিতে সহায়তা দিচ্ছে ভারত। প্রয়োজন বিবেচনায় আমরা প্রকল্পগুলো অব্যাহত রাখার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘কিছু প্রকল্পের অগ্রগতি শূন্য থেকে এক বা দুই শতাংশের মতো। এগুলো আমরা একটু দেখব। কিন্তু আপাতত গণহারে বন্ধ করার বিষয় নেই। এখানে অর্থনৈতিক দিক ছাড়াও দ্বিপক্ষীয় একটা বিষয় আছে। অর্থনীতির জন্য একটা প্রকল্প নেওয়া হয়, কিন্তু ক্যান্সেল করা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এ ব্যাপারে আমি যথেষ্ট যতœবান। চট করে বাতিল করে দেব না। চট করে আমরা কিছু নিচ্ছিও না।’
এলএনজি সংকট নিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘এলএনজি সংকটের কোনো সম্ভাবনা নেই। দুটি লটে আজ আমরা এলএনজি আমদানি করতে বলেছি। ধারাবাহিকভাবে আমরা বলছি, কষ্ট বেশি হোক বা না হোক, আমরা সরবরাহটা নিশ্চিত করব।’
