দাবি পুলিশ সুপারের

গণপিটুনির আগে থানা থেকে লুটের পিস্তল দিয়ে গুলি ছুড়েন নেজাম 

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৫, ১০:২৬ পিএম

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার আগে কোতোয়ালী থানা থেকে লুট হওয়া পিস্তল দিয়ে নেজাম গুলি ছুড়েছিলেন বলে দাবি করেছেন পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম। ‘ডাকাত সন্দেহে’ গণপিটুনিতে নিহতের পর একজনের মরদেহের পাশ থেকে একটি পিস্তলটি উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই পিস্তলটি গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের দিন চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন। 

এর আগে সোমবার রাতে ঘটনাস্থল উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের ছনখোলা পশ্চিমপাড়া নেজাম ও সালেক নামে দুজনকে ‘ডাকাত সন্দেহে’ পিটিয়ে হত্যা করে স্থানীয় জনতা।

জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নগরের আটটি থানা ও আটটি ফাঁড়িতে লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। ওই সময় ৮১৩টি অস্ত্র ও ৪৪ হাজার ৩২৪ গুলি লুট হয়। এসব অস্ত্র ও গুলির বেশিরভাগ এখনো উদ্ধার হয়নি।

পুলিশ সুপার বলেন, আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে খুন হন নেজাম ও সালেক। ঘটনার দিন তারা সাতটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে সেখানে গিয়ে ব্যবসায়ীদের অস্ত্র প্রদর্শন করেছিলেন। তারা চাঁদার জন্য নিয়মিত সেখানে যেতেন। ঘটনার চার থেকে পাঁচ দিন আগেও তারা সেখানে গিয়ে এক ইউপি সদস্যের স্ত্রীকে থাপ্পড় মেরেছিলেন। যার কারণে জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

গণপিটুনির ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, সেখানে তাদের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের শক্ত অবস্থানও পাইনি। ঘটনার দিন নেজাম সেখানে গিয়ে অস্ত্র নিয়ে গুলি করেছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর সেখান থেকে যে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছিল, সেটি সিএমপির কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র।

পুলিশ জানায়, নিহত সালেকের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, বিস্ফোরকসহ পাঁচটি ও নেজামের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। গত সোমবার রাতে উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের ছনখোলা পশ্চিমপাড়া এলাকায় মসজিদের মাইকে ডাকাত এসেছে ঘোষণা দিয়ে দুই ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই দুজন নিহত হন।

নিহতরা হলেন- উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের মধ্যম কাঞ্চনা এলাকার মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন (৪৫) ও একই ইউনিয়নের গুরগুরি এলাকার মোহাম্মদ সালেক (৩৫)। ঘটনায় স্থানীয় এক দোকানিসহ চার ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

এদিক নিহত দুজন জামায়াতের সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের সেক্রেটারি জায়েদ হোছেন। তিনি বলেন, ‘একটি শালিস বৈঠকের কথা বলে, নেজাম ও সালেককে এওচিয়ায় ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দুজনের মাথায় পর্যায়ক্রমে আঘাত করা হয়। এদিকে এ ঘটনার তিন দিন পরেও সাতকানিয়া থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত