ধান না কিনেই চলতি বছর ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শেষ করেছে রাজবাড়ী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়। তিন মাস ধরে চলা অভিযানে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের কিছুু বেশি চাল সংগ্রহ করা গেলেও ধান সংগ্রহ করতে পারেনি এক ছটাক। ব্যর্থতা নিয়েই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে এ বছরের আমন মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান।
জানা যায়, এ বছর রাজবাড়ীর পাঁচটি উপজেলায় ৩ হাজার ৪৬৬ টন ধান ও ২ হাজার ৮৪৩ টন চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে অভিযান শুরু হয় গত নভেম্বরে। সরকারিভাবে প্রতি কেজি ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৩ ও চাল ৪৭ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ৩ টাকা বেশি। লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ১ হাজার ৯৭৩ টন চাল কেনার জন্য ১৯টি চালকল মালিকের সঙ্গে চুক্তি করে খাদ্য বিভাগ। এর মধ্যে দুটি অটোরাইস মিল ও ১৭টি হ্যাঙ্কিং মিল। অভিযান শেষ হওয়া পর্যন্ত ১ হাজার ৬৭৩ টন চাল সংগ্রহ করা হয়, যা চুক্তিপত্রের ৮৫ শতাংশ। ধান সংগ্রহে শতাংশের হার শূন্য।
সদর উপজেলার বাগমারা গ্রামের কৃষক হোসেন খাঁ বলেন, ‘এ বছর ধান ওঠার পরপরই দাম ভালো পাওয়ায় গ্রামের বেশিরভাগ কৃষক ধান বিক্রি করেন। সরকারি গুদামে ধান দিতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে ধানের শুষ্কতা প্রয়োজন হয়। আর সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করলে টাকা পেতে ঝামেলা পোহাতে হয়, কিন্তু বাড়ি থেকে বিক্রি করলে নগদ টাকা পাওয়া যায়। এজন্য কিছুটা লোকসান হলেও বাড়ি থেকেই বিক্রি করা হয়।
ধান ব্যবসায়ী হারুন ম-ল বলেন, ‘এ বছর ধান ওঠার শুরু থেকেই ১২০০-১৩০০ টাকায় ধান বেচাকেনা হয়েছে। গত দুই মাস ধরে প্রতিমণ ধান প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর ধানের দাম একটু বেশি। ভালো দাম পাওয়ায় মৌসুমেই বেশিরভাগ কৃষক ধান বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন ধানের সরবরাহ কিছুটা কম।’
আমজাদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শফিকুল আলম বলেন, ‘সরকারি গুদামে আমাদের মিল থেকে ৭৮৩ টন চাল দেওয়ার চুক্তি হয়। আমরা ৪৮৩ টন চাল দিয়েছি। এ বছর সরকারিভাবে চালের দাম ছিল ৪৭ টাকা। বাজারে ধানের দাম বাড়তি। এক কেজি চাল উৎপাদন করতে ৫৪-৫৫ টাকা পড়ে যাচ্ছে। লোকসান হওয়ায় আমরা আর চাল দিতে পারিনি।’
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলমগীর কবির বলেন, ‘সরকারের ধান কেনার মূল উদ্দেশ্য কৃষককে প্রণোদনা প্রদান করা। খোলা বাজারে ধানের দাম সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি। এ কারণে কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান দিতে আগ্রহী নন। এই চাল-ধান সংগ্রহ না করা গেলেও আপদকালীন সময়ে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।’
