চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা থেকে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ওই নারীর নাম রোমেনা ইসলাম। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে শনিবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় স্বামী জাফর আলী চৌধুরীকে(৪৩) খুন করেন রোমেনা। নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বি ব্লকের ৯ নম্বর সড়কের একটি ভবনের ফ্ল্যাটে থাকতেন এই দম্পতি। জাফর আলী চৌধুরী পেশায় ছিলেন একজন ব্যাংকার। এ ঘটনায় রবিবার (২৩ মার্চ) দুপুরে চান্দগাঁও থানায় ভিকটিমের ছোট ভাই মো. আবুল হাসনাত বাদী হয়ে রোমেনাকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার রোমানা নগরের কোতোয়ালী থানার জেলরোড এলাকার মো. ফয়জুল ইসলামের কন্যা।
চান্দগাঁও থানার ওসি আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘আমরা বাসায় গিয়ে জাফর আলী চৌধুরীর লাশ পাইনি। লাশ পাওয়া গেছে চমেক হাসাপাতালে। মরদেহের হাতে নখের আঁচড়, কানে জমাটবাঁধা রক্ত এবং মাথার পেছনে ফোলা জখম ছিল। তবে স্বামীকে হত্যার দায় স্বীকার করছেন না স্ত্রী। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
জাফর আলীর পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জের ধরে পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে। পুলিশকে খবর দেওয়ার আগেই লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফেলে পালিয়েছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
নিহত জাফর আলী চৌধুরী ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার উত্তর ইদিলপুর এলাকার জানে আলম চৌধুরীর ছেলে। তিনি আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক কদমতলী শাখার সিনিয়র এক্সিকিউটিভ পদে কর্মরত ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, জাফর আলী চৌধুরী তার স্ত্রী ও দুই ছেলে সন্তানকে নিয়ে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন। সংসারের বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে রোমানা ইসলাম জাফরকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। জাফরের শ্বশুরও তাকে বিভিন্নসময়ে চাকরিচ্যুত ও ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি দেয়। জাফর তার ছোট ভাইকে বেঁচে থাকতে জানিয়েছিলেন, শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পর তাকে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল।
এজাহারে বলা হয়, জাফরের দুই শ্যালক শরীফুল ইসলাম এবং আরিফুল ইসলাম বিভিন্নসময় তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। গত ২২ মার্চ সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে রোমানা ইসলাম তার ননাস রোকেয়াকে ফোন করে বলেন, জাফর অসুস্থ এবং তার কান দিয়ে রক্ত পড়ছে। এরপর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে বলে। শরীফুলের বড় বোন এবং ভাগিনা চট্টগ্রাম মেডিকেল গিয়ে তার নিথর দেহ দেখতে পায়। এরইমধ্যে শরীফুলের শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যান সেখান থেকে।
