আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য 

বিএনপির ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়ে জমি দখলের অভিযোগ 

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৫, ০৪:৪১ পিএম
শরীয়তপুরের জাজিরায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিএনপির ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়ে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দেলোয়ার মাদবরের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি উপজেলার উত্তর বাইকশা এলাকার। এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তবে ক্রয় সূত্রে ওই জমির মালিক দাবি করছেন দেলোয়ার মাদবর।
 
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুয়া দলিল বানিয়ে জমি জোর করে দখলে নিতে চান স্থানীয় দেলোয়ার মাদবররা এমনটা অভিযোগ করেছেন শাহাবুদ্দিন। তাই শাহাবুদ্দিন বাদী হয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেলোয়ার মাদবর, জাহাঙ্গীর মাদবর ও মাসুম মাদবরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি ওই জমির শ্রেণি পরিবর্তন যেন না হয় এবং স্থানটিতে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪/১৪৫ ধারা জারি করেন আদালত। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উত্তর বাইকশা এলাকার দেলোয়ার মাদবর বিএনপির ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়ে জমির মাটি কেটে ঘর উত্তোলনের চেষ্টা করছেন। 
 
স্থানীয় জসিম মাদবর, আনোয়ার মাদবর বলেন, দেলোয়ার মাদবর বিএনপির ব্যানার টাঙিয়ে জমি দখল করে কাজ করছেন। তাকে কেউ কিছু বলছে না, কারণ তিনি বিভিন্ন যায়গায় টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেছেন। এই জমি নিয়ে ৫/৭টা সালিশ হওয়ার পরও তিনি কারও কথা মানছেন না। তাকে আমরা বলেছি, আদালতের রায় পেলে কাজ শুরু করেন। কিন্ত তিনি তা মানছেন না।
 
জাজিরা পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বাচ্চু সরদার বলেন, এই জমি নিয়ে এলাকায় ও থানায় একাধিকবার দরবার সালিশ হয়েছে। সালিশে শাহাবুদ্দিন মাদবর জমির দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্র দেখিয়েছেন। কিন্তু দেলোয়ার মাদবর সঠিক কোনও দলিল, কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এই জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।
 
ভুক্তভোগী শাহাবুদ্দিন মাদবর বলেন, দেলোয়ার মাদবর বিএনপির একটি ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়ে জোর করে আমার জমি দখল করেছেন। এই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ছাড়া থানায় ও এলাকায় ৫/৭ বার দরবার সালিশও হয়েছে। কিন্তু তিনি তা মানছেন না।
 
তবে, দেলোয়ার মাদবর বলেন, আমি বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ছবি দিয়ে জমির সামনে ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়েছি সত্য। আমার কোনও বিএনপির পদ নাই। সামনে আমি পদ পাব। তবে সাবেক এমপি বিএম মোজাম্মেল আমার বেয়াই। আমি কখনও আওয়ামী লীগ করিনি।
 
তিনি বলেন, জমিটি নিয়ে সমস্যা রয়েছে। শাহাবুদ্দিন একটা দলিল দেখান, যেটা পিঠ দলিল। এই জমিটা তার দাদা ১৯৪৭ সালে আমাদের দলিল করে দিয়েছেন। কিন্তু আমার কাছেও দলিল-পরচা আছে, তিনটা এসএ রেকর্ড আমার বাবার নামে। আর জমিতে ১৪৪/১৪৫ জারি উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।
 
জাজিরা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয় দিয়ে সুরুজ মাদবর অপু নামে একজন বলেন, দেলোয়ার মাদবর ভালো লোক। তিনি রাজনীতিতে জড়িত না। তিনি সাবেক এমপির একজন আমীন ছিলেন। এখন বিএনপির সাথে জড়িত। ওসিসহ আমরা ৭/৮ জন থানায় বসে দেলোয়ারের কাগজপত্র দেখেছি। তার কাগজপত্র ঠিক আছে। দেলোয়ার মাদবরের সঙ্গে যা হচ্ছে জুলুম অত্যাচার।
 
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দুলাল আকন্দ বলেন, ওই জমিতে আদালতের ১৪৪/১৪৫ ধারা জারি রয়েছে। জমির শ্রেণি পরিবর্তন যেন না হয় এবং দু'পক্ষ যেন স্থানটিতে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখে তার জন্য পুলিশ তৎপর আছে। আর কেউ যদি আইন অমান্য করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত