পর্যটকদের পদচারণায় ঠাঁই নেই চায়ের দেশে

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৫৯ পিএম

ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে চায়ের দেশ মৌলভীবাজার পর্যটক ও স্থানীয়দের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে। চায়ের রাজধানীখ্যাত এই পর্যটন নগরীর চা বাগানগুলোতে ঈদের ছুটি কাটাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পর্যটকরা। চা বাগানসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভিড় করছেন তারা। হোটেল-রিসোর্ট মালিকরা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ হোটেল-রিসোর্টই বুকিং হয়ে আছে।
 
দেশি-বিদেশি মিলে মৌলভীবাজার জেলায় রয়েছে ৯৩টি চা-বাগান ও শতাধিক পর্যটন স্পট। জেলায় দুইশ হোটেল-মোটেল ও কটেজে কোনো কক্ষই খালি নেই। ফলে রাত্রিযাপনে পর্যটকদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

হাওর,পাহাড়, নদী, টিলায় ঘেরা মৌলভীবাজার জেলায় প্রকৃতি একেক ঋতুতে একেক রূপের জানান দেয়। চা গাছে নতুন কুঁড়িতে সৌন্দর্যের মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সবুজ গালিচা মোড়ানো চা-বাগান। প্রকৃতির এমন সান্নিধ্য পেতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন হাজারও পর্যটক।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, জেলা সদর, শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ ও বড়লেখাসহ অন্যান্য উপজেলা মিলে ঈদের দিন থেকে হাজারও পর্যটক আসায় হোটেল, রেস্টুরেন্ট আর চা বাগান লোকে লোকারণ্য। পুরো এলাকা জুড়ে পর্যটকের বিচরণ। যারা হোটেলের কক্ষ বুকিং না দিয়ে এসেছেন, তাদেরই কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

অবশ্য পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সকল দর্শনীয় স্থানে নজরদারি রাখা হচ্ছে জানিয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি থানাপুলিশ, র‍্যাব ও সাদাপোশাকেও ট্যুরিস্ট পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে।

রংপুর থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা কবির জামান বলেন, শ্রীমঙ্গলে এসে অনেক ভালো লাগলো। চারদিকে সবুজ চা-বাগানের ভেতর ঘুরে বেড়াচ্ছি। বাইক্কা বিল, বিটিআরআইও বধ্যভূমি দেখে মুগ্ধ হয়েছি। প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যেতে মন চাচ্ছে। নুরুন নাহার নামে বগুড়া থেকে আসা এক পর্যটক বলেন, লাউয়াছড়া উদ্যান ও চা-বাগানে এসে ছবি তুললাম। এই প্রথম এখানে আসা। যেদিকে যাচ্ছি ভালো লাগছে।

দর্শনার্থী মোহাম্মদ ফরহাদ ও শিউলি বলেন, ঢাকা শহরের কোলাহল ছেড়ে এ রকম সুন্দর জায়গা, আসলে প্রকৃতির কাছাকাছি পাইনা রাজধানীর ঢাকায়। তাই মাঝেমধ্যে চায়ের দেশে বেড়াতে আসি। শ্রীমঙ্গলের এক রেস্তোরাঁর পরিচালক বলেন, এই ঈদের ছুটিতে ভালো বেচাকেনা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল ট্যুর অপারেটর অ্যান্ড ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম বলেন, শহরের কিছু হোটেল ছাড়া ছোট-বড় সব রিসোর্টই পরিপূর্ণ। দেশি ছাড়া বিদেশি পর্যটকরাও ঘুরতে এসেছেন।

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার বলেন, ঈদের দিন থেকে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে কয়েক সহস্রাধিক পর্যটকের সমাগম ছিল।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, গত কদিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের পদচারণায় প্রায় ৬ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলায় পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওর ও মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, শ্রীমঙ্গল উপজেলার বাইক্কা বিল হাইল হাওর, বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, বধ্যভূমি ৭১, বিটিআরআই চা বাগান এলাকা, রাবার বাগান, সাত লেয়ারের চা, মনিপুরি পাড়া ও পাঁচ তারকা হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ, টি বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন টি রিসোর্ট অ্যান্ড টি মিউজিয়াম, কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ, হাম হাম জলপ্রপাত, মাধবপুর লেক, আনারস ও লেবু বাগান এই জেলায় পর্যটকের প্রধান আকর্ষণ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত