গত মাসে গাজায় ১৫ জন ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার মুহূর্তের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে, ইসরায়েলি সেনারা তাদের উপর গুলি চালানোর সময় অ্যাম্বুলেন্স এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে লাল বাতি দৃশ্যমান ছিল। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস) জানিয়েছে, ভিডিওটি একজন স্বাস্থ্যকর্মীর ফোন থেকে পাওয়া গেছে, যিনি নিহত হয়েছেন।
যদিও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) শুরুতে গাড়িগুলোর হেডলাইট বা জরুরি সংকেত জ্বালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছিল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তাদের সৈন্যরা হেডলাইট বা জরুরি সংকেত ছাড়াই চলাচল করা ‘সন্দেহজনক’ যানবাহনের উপর গুলি চালিয়েছিল।
কিন্তু পিআরসিএসের হাতে আসা এবং স্কাই নিউজের যাচাই করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, অ্যাম্বুলেন্স ও একটি দমকলের গাড়িতে লাল বাতি জ্বলছে। নতুন ভিডিওর প্রতিক্রিয়ায় আইডিএফ বিবিসিকে বলেছে, ‘ঘটনা সম্পর্কে প্রচারিত নথিপত্রসহ সব দাবি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এবং গভীরভাবে পরীক্ষা করা হবে। যাতে ঘটনার ধারবাহিকতা ও পরিস্থিতি বোঝা যায়।
প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (পিআরসিএস) প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িগুলো অন্ধকারে হেডলাইট জ্বালিয়ে এবং জরুরি ফ্ল্যাশিং লাইট জ্বালিয়ে চলছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে দেওয়া সর্বশেষ ভিডিওতে দেখা যায়, চিহ্নিত গাড়িগুলো রাস্তার ধারে থেমে আছে, আলো তখনও জ্বলছে। এসময় জরুরি বিভাগের দুজন কর্মী বেরিয়ে আসছেন।
স্কাই নিউজ ফুটেজের অবস্থান এবং সময় যাচাই করতে পরবর্তী ভিডিও এবং স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করেছে। এটি ২৩ মার্চ রাফার উত্তরে চিত্রগ্রহণ করা হয়েছিল। এতে চিহ্নিত অ্যাম্বুলেন্স ও অগ্নিনির্বাপক গাড়ির একটি বহরকে মধ্য রাফার দিকে যাওয়ার রাস্তা ধরে দক্ষিণে যেতে দেখা যায়। কনভয়ে দৃশ্যমান সব যানবাহনের ফ্ল্যাশিং লাইট জ্বলছে। একই দিন স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে স্কাই নিউজের তোলা একটি স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, একদল গাড়ি রাস্তা থেকে সরে গেছে।
যে গাড়ি থেকে ভিডিও করা হয়েছে তার জানালায় ফাটল ধরেছে, এবং ভিডিও করার সময় কয়েক মিনিট ধরে গুলির শব্দ শোনা যায়। ধারণা করা হচ্ছে ভিডিওটি যিনি করেছেন তিনি নিহত হয়েছেন।
ঘটনার এক সপ্তাহ পর একটি কবর থেকে তার লাশ উদ্ধারের পর ফোনে ফুটেজটি পাওয়া যায়।
ওই কবরে আট স্বাস্থ্যকর্মী, ছয়জন গাজা সিভিল ডিফেন্সের কর্মী এবং জাতিসংঘের এক কর্মীর লাশ তাদের বিধ্বস্ত গাড়িসহ বালির মধ্যে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের প্রধান জোনাথন হুইটল জানিয়েছেন, পিআরসিএসর আট চিকিৎসক, সিভিল ডিফেন্সের ছয় সদস্য ও জাতিসংঘের এক কর্মীর লাশ একটি গণকবরে পাওয়া গেছে।
তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন হামাস এবং জঙ্গি নিহত হয়েছে, তবে তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি।
বেঁচে যাওয়া একজন স্বাস্থ্যকর্মী এর আগে বিবিসিকে বলেছিলেন, অ্যাম্বুলেন্সগুলো পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছিল এবং সেগুলোর ভেতরে ও বাইরে আলো জ্বলছিল।
শুক্রবার জাতিসংঘে পিআরসিএসের প্রেসিডেন্ট ড. ইউনিস আল খাতিব বলেন, সংস্থাটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি নিহত দলের একজন সদস্যের কণ্ঠস্বর শুনেছি এবং তার ফোনটি তার লাশের সঙ্গে পাওয়া গেছে এবং তিনি পুরো ঘটনাটি রেকর্ড করেছেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে তার শেষ কথা ছিল, ‘আমাকে ক্ষমা করে দাও মা। আমি শুধু মানুষকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। আমি জীবন বাঁচাতে চেয়েছিলাম’।
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব দ্য রেড ক্রসের (আইএফআরসি) স্থায়ী পর্যবেক্ষক ডিলান উইন্ডার বলেন, গাজায় দায়িত্ব পালনকালে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আট চিকিৎসকের মৃত্যুতে তারা ক্ষুব্ধ।
‘তারা ছিল মানবতাবাদী। তারা এমন প্রতীক পরেছিল যা রক্ষা করা উচিত ছিল, তারা (ইসরায়েলি বাহিনী) তা করেনি’, বলেন উইন্ডার।
