গৌরীপুর-হোমনা সড়কের মরা গাছ এখন মরণফাঁদ

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:০৬ এএম

গৌরীপুর-হোমনা সড়কের কয়েকটি স্থানের শুকনো গাছ এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গাছগুলো এক সময় পথচারীদের ছায়া দিলেও এখন তা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় ৮-১০টি গাছ শুকিয়ে মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। গাছগুলো মরে শুকিয়ে যাওয়ায় তার নিচ দিয়ে যানবাহন ও পথচারীরা আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছে। কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে প্রতিনিয়ত ঘটেছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। 

জানা যায়, উপজেলার গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে তিতাস হয়ে হোমনা পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার রাস্তার দুপাশে কড়ইসহ বিভিন্ন গাছ রোপণ করেছিল একটি সংস্থা। সময়ের সঙ্গে সেই গাছগুলো বড় হয়ে ছায়া প্রদান করছিল। কিন্তু কয়েক বছর আগে সড়কটি প্রশস্ত করা হয়। এতে বেশ কিছু গাছের মূলসহ শেকড় রাস্তার পাকা ঢালাইয়ের নিচে চাপা পড়ে। এতে গাছগুলোর মূল শেকড় নষ্ট হয়ে মরে শুকিয়ে যায়। বর্তমানে মরা গাছগুলোর ডালপালা পথচারীদের মাথার ওপর যখন-তখন ভেঙে পড়তে পারে।

নিরাপদ সড়ক চাই দাউদকান্দি উপজেলার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘অত্যন্ত ব্যস্ততম এই সড়কে প্রতিদিন দাউদকান্দি, তিতাস, মেঘনা, হোমনা ও বাঞ্ছারামপুরের হাজার হাজার নারী-পুরুষ রাজধানী এবং কুমিল্লায় যাতায়াত করেন। এ ছাড়া এ সড়ক দিয়ে শিক্ষার্থীরাও যাতায়াত করেন। তাদের সবাইকেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অতি দ্রুত রাস্তার দুপাশের নষ্ট গাছগুলো অপসারণ করার দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

স্থানীয় অটোরিকশা চালক নুর আলম, সাইফুল ও রকিব উদ্দিনসহ কয়েকজন বলেন, প্রতিদিন গৌরীপুর মোড় থেকে বাজারে যাত্রী নিয়ে আসা-যাওয়া করি। মাঝে মধ্যেই গাছের বড় বড় শুকনো ডাল ভেঙে পড়ে। যেকোনো সময় মাথার ওপর গাছ ভেঙে পড়তে পারে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এ গাছগুলো রাস্তার পাশ থেকে সরিয়ে ফেলা দরকার।

স্থানীয় সমাজকর্মী ডা. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজার পর্যন্ত এক কিলোমিটার অংশে ১০-১২টি মরা শুকনো গাছ রয়েছে। কয়েক দিন আগে আঙ্গাউড়া মসজিদের সামনে একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশার ওপর শুকনো গাছের ডালা ভেঙে পড়ে। তখন কেউ আহত না হলেও সামনে ঝড়বৃষ্টির দিনে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব মরা গাছগুলো অপসারণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা ইসলাম বলেন, ‘গাছগুলো যেহেতু সড়ক ও জনপথের জায়গায় পড়েছে, তাই বন বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জনসাধারণের জন্য যেটা সুবিধা হয় আমরা সে ব্যবস্থাই নেব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত