চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে কিশোর গ্যাং পরিচালনায় অভিযুক্ত যুবলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। গতকাল শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে চৌধরীহাট বাজার থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৩ মামলার আসামি স্থানীয় চিকনদন্ডী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নুর হোসেন ওরফে চাপাতি হাসান (৩৭)।
অপরদিকে গত ২৯ মার্চ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানাধীন চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে থেকে ১০০পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন চাপাতি হাসানের অন্যতম সহযোগী সাবেক ইউপি সদস্য স্থানীয় মধ্য মাদার্শা ইউনিয়েনের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. ইউসুফ (২৮)। একই অভিযানে রাকিবুর রহমান (৩০) নামে তার এক সহযোগীও গ্রেপ্তার হন। ধৃত চাপাতি হাসান উপজেলা চিকনদন্ডী ইউনিয়নের ফতেয়াবাদ এলাকার ইসলাম বাবুর্চির বাড়ির নুর মোহাম্মদের ছেলে। মধ্য মাদার্শা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. ইউসুফ ওরফে ইউসুফ মেম্বার স্থানীয় সিকদার পাড়ার মামা ভাগিনা বাড়ির আবদুল মালেকের ছেলে। তার (ইউসুফ) সঙ্গে ধরা পড়া রাকিবুর রহমান ফতেয়াবাদ এলাকার মৃত নুরুল আলমের ছেলে।
গত ২৯ মার্চ রাতে হাটহাজারীর মধ্যমাদার্শার কিশোর গ্যাং নেতা হিসেবে পরিচিত সাবেক ইউপি সদস্য মো. ইউসুফ ইয়াবাসহ লোহাগাড়া থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেও বিষয়টি জেলা পুলিশের দপ্তর থেকে জানা গেছে আজ রোববার (৬ এপ্রিল)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লোহাগাড়া থানার উপপরিদর্শক মো. শরীফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সেদিন রাতে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা পাচারকালে ইউসুফ ও রাকিবুর রহমান নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা গভীর রাতে কক্সবাজার থেকে মোটরসাইকেলের এয়ার ফিল্টারের ভেতরে করে ইয়াবার চালান নিয়ে চট্টগ্রাম শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। ১০০ পিস ইয়াবাসহ পুলিশ চেকপোস্টে তারা ধরা পড়ে তারা। দুজনের মধ্যে একজন আগের একটি মাদক মামলার আসামি।’
লোহাগাড়া থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, হাটহাজারীর মধ্য মাদার্শায় যুবলীগ নেতা পরিচয় দেওয়া ইউসুফের বিরুদ্ধে এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা, মাদক বেচাকেনাসহ একাধিক অপরাধে যুক্ত থাকার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
স্থানীয় গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, গত চার-পাঁচ বছর ধরে মধ্য মাদার্শা সিকদার পাড়া এলাকায় যুবলীগ ক্যাডার পরিচয়ে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন ইউসুফ। এলাকায় গঠন করেন কিশোর গ্যাং। ওই গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে এলাকায় এখনো বিচরণ করছেন মো. শফির ছেলে মো. জাফর, মৃত নুরুল হকের ছেলে মুমিন ওরফে কালু, সামছুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ফাহিম ওরফে শাবু এবং মো. কামালের ছেলে কামরুল ওরফে রাহাত।
মধ্য মাদার্শার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইউসুফের অপরাধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলতেন না। কেউ প্রতিবাদ করলে তার ওপর দলবল নিয়ে হামলা চালাতেন তিনি। সে গ্রপ্তার হওয়ার মধ্য দিয়ে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
হাটহাজারী থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া চাপাতি হাসান দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ হাটহাজারীতে অপরাধ জগতের ভয়ঙ্কর মুখ হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল, অস্ত্রবাজীসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড করে বেড়ান। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে আত্মগোপনে চলে যান চাপাতি হানান। তার বিরুদ্ধে কয়েকবছর আগে নুর হোসেন নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধ সংঘঠনের অভিযোগে অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে।
হাটহাজারী থানার এসআই রুপন নাথ বলেন, ‘চাপাতি হাসানকে আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি ফতেয়াবাদ ও আশপাশের এলাকার ত্রাস ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে স্বস্তি ফিরে এসেছে ফতেয়াবাদ এলাকায়।’
রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না: হেফাজত
৯ দিন বন্ধের পর হিলি বন্দর দিয়ে বাণিজ্য শুরু