গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ মিছিল 

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:১৫ পিএম

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সংহতি সমাবেশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। সোমবার (৭ এপ্রিল) বিকাল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনের সড়কে মানববন্ধন করেন তারা। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শহীদ মিনারের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। 

বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীদের ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘ফ্রম দ্যা রিভার টু দ্যা সী, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি’, ‘হামাসের যোদ্ধারা, লও লও লও সালাম’, ‘ইন্তিফাদা ইন্তিফাদা, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘নেতানিয়াহুর দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়। 

সমাবেশে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সজিব আহমেদ জেনিচ বলেন, ‘ফিলিস্তিনের মানুষের ওপর যুগের পর যুগ ধরে যে বর্বর নির্যাতন, নিপীড়ন চলছে সেই জায়গায় বিশ্ব মানবতা আজ নীরব। পৃথিবীর বুকে বড় ইসলামিক রাষ্ট্র আছে কিন্তু তারা কোনো কথা বলছে না। এটা কোনো ধর্মযুদ্ধ না, এটা আসলে মানবতার যুদ্ধ। পৃথিবীর সকল মানুষের উচিত ফিলিস্তিনিদের পাশে এসে দাঁড়ানো।’

তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘যেভাবে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে, এভাবে যদি চলতে থাকে আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই পৃথিবীতে যে ফিলিস্তিন নামক একটি দেশ ছিল, গাজা নামের একটি উপত্যকা ছিল সেটা পৃথিবীর মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। ইসরায়েল ফিলিস্তিনে যে হামলা চালাচ্ছে আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একইসাথে আমরা বিশ্ব বিবেক ও আন্তর্জাতিক যে সংস্থাগুলো আছে তাদেরকে অনুরোধ করবো যে,  আপনারা অতি দ্রুত গাজাবাসীর পাশে দাড়ান এবং গাজায় যে গণহত্যা চালানো হচ্ছে সেটি বন্ধের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’

ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘ফিলিস্তিনের গাজার প্রত্যেকটি শিশুর কান্না আমাদেরকে কাঁদিয়ে যাচ্ছে, ফিলিস্তিনের প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে তাই ফিলিস্তিনের মুক্তির দাবিতে আমরা সকলে এখানে সমবেত হয়েছি। শুধু ইসরায়েল বিরোধী স্লোগান দিয়ে, জায়ানবাদ বিরোধী স্লোগান দিয়ে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের মুক্ত করা যাবে না। ইসরায়েল হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি শিশু রাষ্ট্র। সুতরাং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পতন না হলে ইসরায়েলের পতন সম্ভব না। ফিলিস্তিনের মুসলমানদের মুক্তির জন্য আমরা প্রয়োজনে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।’

উপাচার্য অধ্যাপক মো. কামরুল আহসান বলেন, ‘যারা মানবাধিকার নিয়ে চিৎকার করে, যুদ্ধ করে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, মুসলমান কিংবা ভিন্ন ধর্মের একজন মানুষের রক্ত যদি আপনাদের হৃদয় স্পর্শ করতে না পারে তাহলে আপনারা মানবাধিকারের কর্মী নন। আপনাদের এই কাজটি হচ্ছে পৃথিবী শাসন করার একটি কৌশল। গাজায় যে গণহত্যা চলছে সেটা কোনো রাজনীতি কিংবা অর্থনীতিকে সমর্থন করে না। যারা গণতন্ত্রের নামে সারা বিশ্বে পুঁজিবাদ কায়েম করে শাসন করতে চায় তাদেরকে মনে করিয়ে দিতে চাই, গাজার এই রক্ত আপনাদের সকল প্রয়াসের বিরুদ্ধে যায়, আপনারা সবাই স্ববিরোধ মুক্ত হন, মানুষ হন তারপর পৃথিবী শাসন করেন।’

এদিকে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার প্রতিবাদে বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সোমবার (৭ এপ্রিল)  সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অফিসে কর্মবিরতি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়াও সংহতির অংশ হিসেবে আগামীকাল মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল)  বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত