যুদ্ধ-রক্ত-মৃত্যু তবু মুক্তির লড়াই থামবে না

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৫২ এএম

মানুষের নৃশংসতার বুঝি কোনো সীমা নেই। আইনস্টাইন বলেছিলেন, মহাবিশ্ব আর মানুষের নির্বুদ্ধিতার কোনো সীমা হয় না, অবশ্য প্রথমটা নিয়ে কিছুটা সন্দেহের অবকাশ থাকলেও দ্বিতীয়টা নিয়ে একদমই নেই। মহাবিজ্ঞানী আইনস্টাইন অবশ্য আরেকটা নিশ্চিত সীমাহীনতার কথা উল্লেখ করেননি, মানুষের নৃশংসতা। প্রাণিজগতের সব প্রাণীর ওপর ছড়ি ঘোরানো, দুনিয়াকে বশে এনে ফেলা মানুষ নিজেদের আবিষ্কার আর ক্ষমতা নিয়ে বড়াই করে। আধুনিক যুগ বলে অহমে ভোগে। অথচ সেই আবিষ্কারের ভয়াল রূপ, আধুনিকতার আদলে আদিম হিংস্রতার প্রকা- রূপের প্রতীক হয়ে ওঠে ফিলিস্তিন। যখনই মনে হয় নৃশংসতার সীমা আর ছাড়ানো সম্ভব না, এর চেয়ে বেশি নিষ্ঠুরতা আর হয় না, তখনই ফিলিস্তিনে দেখা যায় আরও বেশি নিষ্ঠুর দৃশ্য।

সম্প্রতি, চুক্তি ভঙ্গ করে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী আবারও প্রবল আক্রমণ করেছে ফিলিস্তিনে। এক ভিডিওতে দেখা যায়, বোমার আঘাতে মৃত মানুষ শূন্যে ভাসছে। অগণিত শিশুর মৃত্যুর পরও লাশের মিছিল থামছে না। ইসরায়েলের এই হত্যাযজ্ঞে সরাসরি সহযোগিতা করছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি অবিরাম অস্ত্র ও অর্থ সাহায্য দিয়েই যাচ্ছে এই মারণযজ্ঞে। সারা দুনিয়ার মানুষ, এমনকি খোদ মার্কিন দেশেও বিপুল প্রতিবাদ শাসকরা কানে তুলছে না। এর আগে ডেমোক্রেটিক নেতা জো বাইডেনের শাসনামলে এই নীতি ছিল, আর নতুন করে নির্বাচিত রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে তা আরও বেড়ে গেছে। যে কোনোভাবেই তারা ফিলিস্তিনে মানুষকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়। সেই ভূমি দখল করে ইসরায়েলের সীমানা ও শক্তি আরও বাড়াতে চায়। এর সঙ্গে যুক্ত আরব রাষ্ট্রসমূহের শাসকরা। মহানবীর পবিত্র জন্মস্থান সৌদি আরবের শাসকদের সঙ্গে মার্কিনিদের অপবিত্র সম্পর্ক এই মারণযজ্ঞে ঘি ঢালছে। বিপুল বিত্ত আর বৈভবের মালিক, আল্লাহপাকের অসীম দয়ায় তেলের সমুদ্রের মালিক হয়েও এদের লোভ মেটে না। সেই লোভের কারণে এরা মার্কিনিদের খুশি রাখতে চায়। ষাটের দশকে অনেকগুলো আরব দেশ ইসরায়েলকে হারাতে পারেনি। বরং ৬ দিনে হেরেছিল। হারাবে কীভাবে? তারা তো একজোটই হতে পারেনি! তারা লিপ্ত ছিল কেবল নিজেদের স্বার্থ দেখায়। সৌদির মতো আমিরাতের শাসকরাও ইসরায়েলের দোসর। ইরাক, জর্ডান, সিরিয়া, মিসরের শাসকরা নানা রকম স্বার্থে লিপ্ত, তাদের কাছে ফিলিস্তিনিদের মুসলমান পরিচয় বা মানুষ পরিচয়ের কোনো মূল্য নেই।

কিন্তু অনারব, অমুসলিম দেশগুলোতে প্রতিবাদের বন্যা বইছে। আয়ারল্যান্ড দেশটি শতভাগ ক্যাথলিক হলেও সেখানে প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিনিদের জন্য প্রতিবাদ হয়। ফুটবল মাঠে ফিফার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে গ্যালারিতে ফিলিস্তিনের পতাকা দিয়ে ভরে ফেলা হয়। লন্ডনের রাস্তায় লাখো লোকের জমায়েত হয়। সেখান থেকে আওয়াজ ওঠে, নদী থেকে সমুদ্র ফিলিস্তিনের হবে। গাজা উপত্যকার মানুষ একদিন স্বাধীন হবে। শুধু তাই না, খোদ ইসরায়েলে তীব্র প্রতিবাদ ওঠে। সেই দেশের কমিউনিস্টরা সংসদে দাঁড়িয়ে, রাস্তায় জড়ো হয়ে খুনি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সেøাগান দেয়। ইসরায়েলের সংসদে গণহত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন বামপন্থি দল হাদাসের সাংসদ ওফের কাসিফ। ইসরায়েলের সমর্থক খুনি বাহিনিরা বলতে চায়, এই হত্যাযজ্ঞের সূচনা ২০২৩ সালের অক্টোবরের ৭ তারিখে। সেদিন হামাস ইসরায়েলের তথাকথিত অভেদ্য সীমানা ডিঙিয়ে শতাধিক ইসরায়েলিকে হত্যা ও অপহরণ করে। ইসরায়েলি বাহিনী নাকি এই খুনের বদলা আর জিম্মিদের মুক্ত করার জন্য কার্পেটের মতো বোমা মেরে গেছে গত দেড় বছর ধরে। ৫০ হাজার মানুষ আর একটা গোটা দেশকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে তা শোধ হয়নি। সমস্ত রকম যুদ্ধের আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হাসপাতালগুলোকে রেহাই দেয়নি, সবচেয়ে বেশি হত্যা করেছে শিশু ও নারীদের। একে তো এই নির্মমতার কোনো যুক্তি নেই, দ্বিতীয়ত, এই গণহত্যা স্রেফ দেড় বছর আগে শুরু হয়নি। এই গণহত্যার বয়স ৭৫ বছরের বেশি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরপর ব্রিটিশরা মিত্র হিসেবে বেছে নেয় ইহুদিদের মধ্যে এক উগ্র রাজনৈতিক মতবাদে বিশ্বাসী জায়নবাদীদের। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার বেলফোর ১৯১৭ সালে লর্ড রথচাইল্ডকে লেখা এক চিঠিতে ফিলিস্তিনকে ইহুদিদের জন্য একটি ‘জাতীয় আবাসভূমি’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। এই বেলফোর ঘোষণার পথ ধরেই পরবর্তী সময়ে আসে কুখ্যাত ব্রিটিশ ম্যান্ডেট, যা ফিলিস্তিনি আরবদের মতামতকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে একটি ঔপনিবেশিক চক্রান্তের মাধ্যমে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয়।

এই ভূমি দখল কেবল যে নতুন এক ধরনের ঔপনিবেশিকতা তাই না, পশ্চিমাদের পরিকল্পনা ছিল মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে ইউরোপের তথা পশ্চিমের আধিপত্য অব্যাহত রাখতে একটি কৃত্রিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। যে পশ্চিমারা নিজেদের সেক্যুলার বলে গর্ব করে, সেই তারাই ধর্মের নামে জোর করে ভূমি দখল করে, স্থানীয়দের তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। নিজেদের প্রিয় ভূমি আর জলপাইগাছের শোকে ফিলিস্তিনিরা এর প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করে, কিন্তু পেরে ওঠে না। ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পরেও কীভাবে প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তি বা নতুন প্রভাবশালী শক্তিগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে, তা নিয়ে আলোচনা করে উত্তর-ঔপনিবেশিক তত্ত্ব। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত চিন্তাবিদ এডওয়ার্ড সাঈদ তার বিখ্যাত ‘ওরিয়েন্টালিজম’ গ্রন্থে দেখিয়েছেন, পশ্চিমা জগৎ কীভাবে প্রাচ্যকে (বিশেষত আরব ও মুসলিম বিশ্বকে) একটি অপরিশীলিত, যুক্তিহীন এবং হিংস্র ‘অপর’ হিসেবে নির্মাণ করেছে। এই নির্মাণই পশ্চিমা গণমাধ্যম ও সরকারগুলোকে ইসরায়েলি বয়ান গ্রহণ করতে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে চিত্রিত করতে সাহায্য করে। সাঈদ জায়নবাদকে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদ এবং আধুনিক জাতি-রাষ্ট্র ধারণার একটি বিপজ্জনক মিশ্রণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন, যা স্থানীয় বাস্তবতাকে অস্বীকার করে একটি কৃত্রিম রাষ্ট্র চাপিয়ে দিয়েছে।

ইসরায়েলি ঐতিহাসিক শ্লোমো স্যান্ড তার ‘দ্য ইনভেনশন অব দ্য জিউইশ পিপল’ বইয়ে যুক্তি দিয়েছেন যে, আধুনিক ইহুদি জনগোষ্ঠীকে প্রাচীন বাইবেলের সময়কার জনগোষ্ঠীর অবিচ্ছিন্ন বংশধর হিসেবে দেখার ধারণাটি মূলত উনিশ শতকে নির্মিত একটি মিথ। তিনি দেখিয়েছেন, ধর্মীয় বিশ্বাস বা প্রাচীন ইতিহাসের দাবি কোনো আধুনিক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বৈধ ভিত্তি হতে পারে না, বিশেষ করে যখন তা অন্য একটি জনগোষ্ঠীর উচ্ছেদের বিনিময়ে অর্জিত হয়। এই ‘প্রত্যাবর্তনের মিথ’ আসলে বর্তমানের অন্যায়কে অতীতের কল্পিত অধিকার দিয়ে বৈধতা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা মাত্র। আধুনিক যুগে ইসরায়েল আরও একটি ভয়াবহ কাজ করে। এই অবৈধ দখলদার দেশটি পুঁজিবাদের ল্যাবরেটরি হিসেবে কাজ করে। পুঁজিবাদের অন্যতম লাভজনক ব্যবসা হচ্ছে যুদ্ধ ব্যবসা। সারা দুনিয়াতে অশান্তি আর যুদ্ধ জিইয়ে রেখে অস্ত্রের ব্যবসা করাটা পুঁজিপতিদের জন্য খুবই আকর্ষণীয়। এই ব্যাপারটি বিস্তারিতভাবে দেখান লেখক এন্টোনি লোয়েনস্টাইন তার বই ‘হাও ইসরায়েল এক্সপোর্টস দ্য টেকনোলজি অব অকুপেশন অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড’-এ। ইসরায়েলি সেনারা নতুন নতুন মারণাস্ত্র আবিষ্কার করে সেগুলো ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রয়োগ করে। আরও নতুন  কোন কৌশলে মানুষকে মারা যায়, বিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করা হয় তার পরীক্ষা করে। এসব অস্ত্রের ল্যাবরেটরি হচ্ছে ফিলিস্তিন আর সেদেশের মানুষেরা গিনিপিগ। দেশে দেশে শাসকরা এসব অস্ত্রের গ্যারান্টেড পারফরম্যান্স দেখে সেগুলোর অর্ডার দেয়। ভাবছেন, শুধু যেসব জায়গায় যুদ্ধ হয় সেখানেই এসব রপ্তানি হয়? ভুল। বাংলাদেশের দীর্ঘসময়ের স্বৈরশাসক শেখ হাসিনাও ছিলেন ইসরায়েলের গ্রাহক। এ দেশেরই মানুষের টাকায়, এদেশের মানুষকে দমন করার জন্য ইসরায়েল থেকে সার্ভেলেন্স যন্ত্র ও অস্ত্র কেনা হতো কোটি কোটি ডলারের। যেই বাংলাদেশের মানুষ ইসরায়েলকে ঘৃণা করে, তাদেরই কষ্টার্জিত অর্থ ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞে সাহায্য করে। যেই বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার পর থেকেই ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত, তাদের শাসকরাও ফিলিস্তিনিদের হত্যার পরোক্ষ মদদদাতা।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিসংগ্রামে যেসব যোদ্ধা অংশ নিয়েছিলেন, তাদের একটা অংশ ফিলিস্তিন মুক্তিসংগ্রামের কিংবদন্তি নেতা ইয়াসির আরাফাতের ডাকে যুদ্ধে গিয়েছিলেন। সে সব সাদা-কালো ছবি আমাদের প্রেরণা দেয়। আর তাই, সারা দুনিয়ার সঙ্গে আমাদের দেশের মানুষও প্রতিবাদ চালিয়ে যায়। এর নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে এ বছরের এপ্রিল মাসের ৭ তারিখে। এই দিনটিতে ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে সারা দুনিয়ার মানূষ একযোগে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফিলিস্তিনের গাজা ও রাফায় ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিবাদে সারা দেশে ‘নো ওয়ার্ক নো ক্লাস’ কর্মসূচি চলেছে। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালনের লক্ষ্যে সোমবার (৭ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে জড়ো হয়েছে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় আর কলেজগুলোর সামনে বিক্ষোভ মিছিল করবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর গুলশানে মার্কিন দূতাবাস এলাকায় মিছিল বের করেন একদল তরুণ। মার্কিন দূতাবাসের সামনে মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা। এ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মিছিলটির সামনে ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। এছাড়াও রাজধানীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন কলেজসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। কর্মসূচিতে তারা ফিলিস্তিনের পক্ষে নানা সেøাগানও দিয়েছেন। শহীদ মিনারে কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশের সরকারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে ইসরায়েলের গণহত্যা রুখতে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মানুষের ইতিহাস বড় নির্মম। গুটিকয়েক ক্ষমতাশালীর লোভের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় জনপদ। লাখো মানুষের প্রতিরোধও অনেক সময় কাজ দেয় না। ফিলিস্তিনিদের শত বছরের লড়াই এর প্রমাণ। সংগ্রামের যৌক্তিকতাই এর জয়ের জন্য যথেষ্ট না। বরং দিনকে দিন আমাদের আরও অসহায় হয়ে পড়তে হচ্ছে। আমরা চোখের সামনে মানব ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস, লজ্জার এক অধ্যায় রচিত হতে দেখছি। তবে, মানুষের ইতিহাসের গৌরবও নেহাত কম না। এই তো কদিন আগে, আমরা মহাপ্রতাপশালী হাসিনাকে গদি থেকে টেনে নামালাম। যেই হাসিনাকে মনে হতো অপ্রতিরোধ্য, যার পেছনে দুনিয়ার বড় বড় শক্তি, রাষ্ট্রযন্ত্র অবিরাম সমর্থন দিত, তাকেও পালাতে হলো মানূষের সম্মিলিত প্রতিরোধের শক্তিতে। আমাদের গৌরবের মুক্তিযুদ্ধও সেই প্রেরণা দেয়। মুক্তিযুদ্ধের রজতজয়ন্তী পালনের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন আরাফাত আর কালো মানুষের সংগ্রামের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা। কালো মানুষদেরও একসময় মানুষ বলে গণ্য করা হতো না। দাস ব্যবসার লোভনীয় চাপে তাদের সম্মান ছিল গবাদি পশুর সমান। ম্যান্ডেলারা সেই অধিকার আদায়ে আমাদের লড়তে শিখিয়ে গেছেন। ফিলিস্তিনের ভূমি যদি শেষ করে ফেলা হয়, তাতে আমাদের প্রতিটা বুক হয়ে উঠবে ফিলিস্তিনের জমিন। যেই মস্তকবিহীন শিশুর লাশ হাতে পিতা কেঁদে ফেলেন, আমরা হব সেই সব পিতার মতো শোকগ্রস্ত লড়াকু। এই মুক্তির লড়াই থামবে না।

লেখক: সাংবাদিক ও অনুবাদক

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত