ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞ ও ভয়াবহতা

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:২৩ এএম

ভূমিকম্প পৃথিবীর সবচেয়ে ভীতিকর এবং ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি সাধারণত একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে ঘটে, যার ফলে মানুষের জীবন ও সম্পত্তির ওপর এর প্রভাব অত্যন্ত মারাত্মক হতে পারে। ভূমিকম্পের ভয়াবহতা নিয়ে লিখেছেন   অনিন্দ্য নাহার হাবীব

পৃথিবীর ভূকম্পন বা ভূমিকম্প হলো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ শক্তি ও গঠনগত পরিবর্তনের ফলস্বরূপ ঘটে। এটি পৃথিবী পৃষ্ঠের নিচে চাপের সৃষ্টি হলে এবং সেই চাপ হঠাৎ মুক্ত হলে ঘটে। ভূমিকম্পের আগমনের আগে কখনোই তা নিশ্চিতভাবে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয় না, তবে এর কিছু সাধারণ কারণ এবং প্রকারভেদ সম্পর্কে জানলে তা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। পৃথিবীর ভূতত্ত্বের মূল ভিত্তি হলো টেকটোনিক প্লেট, যা পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠকে কয়েকটি বড় প্লেটে বিভক্ত করেছে। এই প্লেটগুলো ধীরে ধীরে একে অপরের সঙ্গে সেøা মোশনে (অতি ধীরে) চলে, কখনো একে অপরের পাশে, কখনো ওপরে অথবা নিচে। এই প্লেটগুলো একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে এলে শক্তিশালী চাপ তৈরি হয়, যা জমে গিয়ে কোনো একটি মুহূর্তে তা মুক্ত হয়ে ভূপৃষ্ঠে কম্পন সৃষ্টি করে। এটি থেকেই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। ভূমিকম্প মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে

টেকটোনিক ভূমিকম্প : টেকটোনিক প্লেটের চলাচলের কারণে এই ধরনের ভূমিকম্প ঘটে। পৃথিবীর অধিকাংশ শক্তিশালী ভূমিকম্প এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এটি সবচেয়ে সাধারণ ধরনের ভূমিকম্প।

ভলক্যানিক ভূমিকম্প : আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা ম্যাগমা ওঠানামার ফলে এই ভূমিকম্প ঘটে। এই ধরনের ভূমিকম্প সাধারণত অগভীর এবং অপেক্ষাকৃত দুর্বল হলেও আগ্নেয়গিরির আশপাশে তা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

ম্যান-মেইড বা মানবসৃষ্ট ভূমিকম্প : খনন, বাঁধ নির্মাণ, তেল/গ্যাস উত্তোলন, ফ্র্যাকিং ইত্যাদি মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে মাটির নিচে চাপ পরিবর্তনের কারণে এই ভূমিকম্প ঘটে। যদিও এটি অপেক্ষাকৃত দুর্বল, তবে কখনো কখনো ক্ষতিকর হতে পারে।

ভূমিকম্পের শক্তি মাপা হয় রিখটার স্কেল বা ম্যাগনিচিউড স্কেল দিয়ে। এই স্কেলে ভূমিকম্পের শক্তি এমনভাবে গণনা করা হয় :

৩.০-এর নিচে : অনুভূত হয় না। ৪.০-৪.৯ : হালকা কম্পন, কিছু ক্ষয়ক্ষতি। ৫.০-৫.৯ : মাঝারি ধরনের ক্ষতি। ৬.০-৬.৯ : গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা। ৭.০-৭.৯ : মারাত্মক ধ্বংস। ৮.০-এর ওপরে : বিপর্যয়কর, বিশেষত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়।

সম্প্রতি, ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মিয়ানমার এবং এর আশপাশের দেশগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যা বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং বিপুল পরিমাণ ক্ষতির কারণ হয়েছে।

ভূমিকম্পটি মিয়ানমারের মান্দালয় শহরের কাছে উৎপন্ন হয়, যার মাত্রা ছিল ৭.৭ রিখটার স্কেল। বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত এবং বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, দেশটি ভবিষ্যতে ৮.২ থেকে ৯ রিখটার স্কেলের ভূমিকম্পের সম্মুখীন হতে পারে। পৃথিবীর ইতিহাসে অসংখ্যবার ভূমিকম্প হয়েছে। মানুষের ইতিহাসেও আছে ভূমিকম্পের তা-বে বিপর্যস্ত হয়ে যাওয়ার নজির। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাণঘাতী সব ভূমিকম্পগুলো আজও মানুষকে ভীত করে তোলে।

শানশি, চীন, ১৫৫৬

পৃথিবীর ভূমিকম্পের ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় দিন ১৫৫৬ সালের ২৩ জানুয়ারি। চীনের শানশি প্রদেশে, মিং রাজবংশের শাসনামলে ঘটে যায় এমন এক ভূমিকম্প, যা আজও বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হিসেবে পরিচিত। ইতিহাসবিদদের ভাষ্য মতে, এতে প্রাণ হারান প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। রিখটার স্কেল তখনো আবিষ্কৃত হয়নি, তবে আধুনিক বিজ্ঞানীরা পরবর্তী সময়ে হিসাব করে এর মাত্রা নির্ধারণ করেন প্রায় ৮ থেকে ৮.৩ এর মধ্যে।

ভূমিকম্পটি এতটাই বিধ্বংসী ছিল যে পুরো পর্বতমালা ধসে পড়ে, নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়, সৃষ্টি হয় ভয়াবহ বন্যা। অনেক কাউন্টিতে জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত মানুষ নিহত হন। এই বিপুল প্রাণহানির কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা চিহ্নিত করেন অঞ্চলটির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও দুর্বল নির্মাণশৈলী যেখানে অধিকাংশ মানুষ বাস করতেন পাথরের খাড়া দেয়ালে খোদাই করা গুহার মতো ঘরে, যা ভূমিকম্পে সহজেই ধসে পড়ে।

শানশির ১৫৫৬ সালের ভূমিকম্প কেবল এক প্রাকৃতিক দুর্যোগই নয়, এটি এক সামাজিক ও মানবিক বিপর্যয়, যা ইতিহাসের পাতায় ভয়াল এক সতর্কবার্তার মতো থেকে গেছে। আজও ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ ভবিষ্যতের নিরাপদ নগরায়ণের প্রয়োজনীয়তার প্রতীক।

এক নিঃশব্দ রাতের ধ্বংসগাথা

চীনের ইতিহাসে ১৯৭৬ সালের ২৮ জুলাই একটি ভয়াল স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে। রাত ৩টা ৪২ মিনিটে রাজধানী বেইজিংয়ের মাত্র ৬৮ মাইল পূর্বে অবস্থিত তাংশান শহর ৭.৮ মাত্রার এক ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। মাত্র ২৩ সেকেন্ড স্থায়ী এই ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে যায় গোটা শহর, আর ধুলোর নিচে চাপা পড়ে লাখো জীবন। প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার মানুষ প্রাণ হারান, আর ১ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন। তাংশান ভূমিকম্পকে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তাংশান ছিল একটি ঘনবসতিপূর্ণ শিল্পনগরী, যেখানে এক কোটি বাসিন্দা জীবিকা নির্বাহ করতেন। আগের দিন শহর জুড়ে দেখা দেয় কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা কুয়ার পানির স্তরের হঠাৎ ওঠানামা, আতঙ্কিত ইঁদুরের পাল, এমনকি দিনের আলোতে অস্বাভাবিক আচরণ। কিন্তু সেগুলো যে একটি ভয়াবহ দুর্যোগের পূর্বাভাস, তা সাধারণ মানুষ তো বটেই, কর্র্তৃপক্ষও উপলব্ধি করতে পারেনি। ভূমিকম্পের পর শহরটির প্রায় ৯০ শতাংশ ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ে। রেলপথ, সড়কপথ, যোগাযোগব্যবস্থা সবকিছু বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিপর্যয়ের পরও চীন সরকার আন্তর্জাতিক সাহায্য গ্রহণ না করে নিজস্ব শক্তিতে উদ্ধারকাজ চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, যা বহু প্রাণরক্ষার সম্ভাবনাকে অসম্ভব করে তোলে। উদ্ধারকারী দলের ঘাটতি, চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষজনের দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার ফলে মৃতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়। তাংশান ভূমিকম্প কেবল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, এটি ছিল প্রশাসনিক প্রস্তুতির অভাব ও বিচ্ছিন্নতা কীভাবে একটি বিপর্যয়কে আরও গভীর করতে পারে তার এক বাস্তব উদাহরণ। এই ভূমিকম্প আজও মনে করিয়ে দেয়, শুধুমাত্র প্রকৃতিই নয়, মানুষের অবহেলা, তথ্য গোপন এবং সহযোগিতার ঘাটতিও কখনো কখনো দুর্যোগকে মহাবিপর্যয়ে পরিণত করে।

ইতিহাসের এক ভয়াল কম্পন

আধুনিক বিশ্বের যুদ্ধবিধ্বস্ত চেহারায় আলেপ্পো আমাদের কাছে এক পরিচিত নাম। কিন্তু এই শহর ধ্বংসের সাক্ষী হয়েছিল আরও প্রায় ৯০০ বছর আগেই, এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে। ১১৩৮ সালের ১১ অক্টোবর, সিরিয়ার আলেপ্পো ও তার আশপাশের অঞ্চল ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। ইতিহাসবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষ প্রাণ হারান যা এটিকে প্রাচীনকালের অন্যতম প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত করে।

তৎকালীন আলেপ্পো ছিল ক্রুসেড এবং মুসলিম শাসকদের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। ভূমিকম্পটি এমন এক সময়ে আঘাত হানে, যখন নগরী দুর্গ এবং প্রাচীর ঘেরা কাঠামোয় পূর্ণ ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই সব কাঠামো দুর্বল নির্মাণশৈলী এবং ঘনবসতির কারণে মুহূর্তেই ধসে পড়ে। দুর্গের নিচে চাপা পড়ে হাজার হাজার মানুষ। এই বিপর্যয় ছিল এতটাই ভয়াল যে, পরবর্তী শতাব্দীগুলোর লেখায় এই ভূমিকম্পকে ‘আকাশের অভিশাপ’ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। আজকের আলেপ্পোর গৃহযুদ্ধের ধ্বংসচিত্র যেমন আমাদের হৃদয় ভেঙে দেয়, তেমনি ১১৩৮ সালের ভূমিকম্প ইতিহাসের পাতায় এক নীরব কান্নার দাগ রেখে গেছে।

মহাসাগর থেকে আসা মৃত্যু-জলোচ্ছ্বাস

একবিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বরের সুমাত্রা ভূমিকম্প ও সুনামি। সকালের শান্ত পরিবেশ ছিন্ন করে ভারত মহাসাগরের গভীরে, ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশ থেকে ১৬০ মাইল পশ্চিমে ঘটে যায় এক ভয়াল ভূমিকম্প, যার মাত্রা ছিল ৯.১ থেকে ৯.৩ যা ইতিহাসে রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত। তবে প্রকৃত বিপর্যয় শুরু হয় ভূমিকম্পের পর। মাত্র ১০ মিনিট স্থায়ী ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট হয় এক ধ্বংসাত্মক সুনামি, যার ৮০-১০০ ফুট উচ্চতার ঢেউ আচেহর উপকূলে আছড়ে পড়ে এবং হাজার হাজার মানুষকে এক নিমিষেই গ্রাস করে। শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই মৃত্যু হয় ১ লাখ ৩০ হাজার জনের, যাদের অধিকাংশই আচেহর বাসিন্দা। এই সুনামি ছিল আন্তর্জাতিক প্রলয়। ৯০ মিনিট পর সুনামির ঢেউ পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা, যেখানে ৩৫ হাজার প্রাণ হারান। ভারত ও থাইল্যান্ডে মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়ায় ২৩ হাজার। এমনকি, সুনামির প্রবল ঢেউ ৫ হাজার মাইল দূরের দক্ষিণ আফ্রিকাতেও আঘাত হানে, যেখানে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় দুজনের। এই দুর্যোগ শুধু প্রাণহানির দিক থেকে নয়, মানবিক ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের রূপেও ইতিহাসে চিরকালীন হয়ে থাকবে। সমুদ্রের তলদেশে হওয়া কয়েক সেকেন্ডের এক কাঁপুনিই পুরো পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়েছিল প্রমাণ করে দিয়েছিল, প্রকৃতির সামনে মানুষ কতটা ক্ষণস্থায়ী আর অসহায়।

ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া একটি জাতি

২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দরিদ্র ও ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হাইতি সাক্ষী হয় এক ভয়ংকর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের। রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স-এর ঠিক পাশ দিয়েই চলে গেছে উত্তর আমেরিকান ও ক্যারিবিয়ান টেকটোনিক প্লেটের সীমানা, যা অঞ্চলটিকে করে তোলে চরম ভূমিকম্পপ্রবণ। সেদিন বিকেলে ঘটে যাওয়া ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র ছিল শহর থেকে মাত্র ১৬ মাইল দূরে এবং এর ভয়াবহতা ছিল এতটাই বিস্তৃত যে কয়েক মুহূর্তেই হাইতির রাজধানী এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ভূমিকম্পে মারা যান প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ, আহত হন আরও ৩ লাখ। এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। ধসে পড়ে হাসপাতাল, স্কুল, সরকারি ভবন, এমনকি রাষ্ট্রপতির প্রাসাদও। দেশের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় আন্তর্জাতিক সহায়তা কার্যক্রম বিঘিœত হয়। হাইতির এই বিপর্যয় শুধু একটি ভূমিকম্প ছিল না, এটি ছিল দীর্ঘদিনের অবহেলা, দুর্বল অবকাঠামো ও দারিদ্র্যের সম্মিলিত ফল। অপ্রস্তুত নগরব্যবস্থা, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ এবং দুর্বল জরুরি সেবা ব্যবস্থাই হাজারো প্রাণ হারানোর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত