দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা টানাপোড়েনের অবসান ঘটল দেশের নারী ফুটবলে। জাতীয় দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে বিদ্রোহী ফুটবলারদের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে অবশেষে অনুশীলনে ফিরলেন কৃষ্ণা রানী সরকার, সানজিদা আক্তারসহ সিনিয়ররা।
গতকাল এক ঘরোয়া বৈঠকে ফুটবলারদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন ইংলিশ কোচ। সব ভুলে নতুন করে পথচলার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। কোচের সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে আজ সকাল ছয়টায় রাজধানীর ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে দলীয় অনুশীলনে যোগ দেন বিদ্রোহী ফুটবলারদের বড় একটি অংশ। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৬৮ দিনের ব্যবধান ঘুচিয়ে মেয়েদের ফুটবলে ফের শৃঙ্খলা ফিরল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল (শনিবার) ছিল জিম সেশন। আজ ছিল মাঠের অনুশীলন। বাফুফে জানিয়েছে, বিদ্রোহে জড়ানো ১৮ ফুটবলারের মধ্যে বর্তমানে বিদেশে থাকা চারজন ছাড়া বাকি ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জন অনুশীলনে ফিরেছেন। শুধু তহুরা খাতুন ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে আজকের মধ্যে।
বিদ্রোহীদের মধ্যে ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, মাতসুশিমা সুমাইয়া ও অধিনায়ক সাবিনা খাতুন এখন রয়েছেন ভুটানে। পারো এফসির হয়ে সে দেশের লিগে খেলবেন তারা। অন্যদিকে আজকের অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন শিউলি আজিম, মোসাম্মাৎ সাগরিকা, রুপনা চাকমা, শামসুন্নাহার জুনিয়র, সানজিদা আক্তার, নিলুফা ইয়াসমিন, মাসুরা পারভীন, মারিয়া মান্দা, শামসুন্নাহার সিনিয়র, কৃষ্ণা রানী সরকার, স্বর্ণা রানী মণ্ডল, সাথী বিশ্বাস ও নাসরিন আক্তার।
মেয়েদের এই বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল গত বছরের অক্টোবরে, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালে কোচ বাটলারের সঙ্গে ফুটবলারদের সম্পর্কের অবনতি হওয়ায়। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে কোচের চুক্তি দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্তে।
চুক্তি নবায়নের পর কোচ বাটলার ক্যাম্পে টিম মিটিং ডাকলেও উপস্থিত হননি ১৮ জন সিনিয়র ফুটবলার। পরে ৩০ জানুয়ারি বাফুফে ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে কোচের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তোলেন সাবিনারা। তারা জানিয়ে দেন, বাটলারকে রেখে তারা আর অনুশীলনে ফিরবেন না। এমনকি দল ছাড়ার হুমকিও দেন একযোগে।
তবে সব উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে আজ যে চিত্র দেখা গেল, তাতে নতুন করে আশার আলো দেখছেন নারী ফুটবলের ভক্ত-অনুরাগীরা। কোচ-ফুটবলারদের সম্পর্ক জোড়া লাগার পর মাঠে ফের সেই পুরোনো ছন্দে ফিরবে বাংলাদেশ নারী দল—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।
বাংলাদেশ সফরের জন্য দল ঘোষণা জিম্বাবুয়ের
রিয়াল ভোগাবে তবে আমরাও সেটা পারি : আর্তেতা