প্রবেশপত্র না পাওয়ায় এবারের এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি কিশোরগঞ্জের কয়ারখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আসমা খাতুন নামের এক অভিভাবক।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আওয়ামী লীগ নেতা শামীম মিয়া (৪৫), সহকারী শিক্ষক মাজাহারুল ইসলাম (৩৫), মুজাম্মেল হোসেন (৪০) ও সাখাওয়াত হোসেনের (৪০) গাফিলতির কারণে বিদ্যালয়ের ১০ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আসেনি। কিন্তু কয়েকদিন আগেও ওই ১০ শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রবেশপত্রের কথা জিজ্ঞাসাবাদ করলে আসবে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। ১০ পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ফরম পূরণের ফি বাবদ ন্যূনতম ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। কারও কাছ থেকে ৪ হাজার, এমনকি ৭ হাজার টাকা করে নিয়েছেন বলেও শোনা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক শামীম মিয়া বলেন, ‘আমার স্কুলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর না থাকায় অন্য স্কুলের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ানোর ব্যবস্থা করে থাকি। এ বছরও সেটি করেছিলাম। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম ওই প্রতিষ্ঠান প্রধান আমাকে জানান, এক সাবজেক্টের বেশি বিষয়ে অকৃতকার্য যারা হয়েছে তাদের রেজিস্ট্রেশন করা যায়নি। তাই বাকি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আমি অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। একেক জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে একেক রকমের ফি নিয়েছিলাম, তারপরেও আমি রেজিস্ট্রেশন করতে পারিনি।’
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুন নাহার মাকছুদা বলেন, ‘আজ পরীক্ষা শুরু, এখন তো কিছুই করা যাচ্ছে না। ওই স্কুলটির সরকারি রেজিস্ট্রেশন নেই। বিষয়টি নিয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। তারা যেভাবে বলে সেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
