মেয়ে তাসফিয়া এবার এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। আগের দিন থেকে বাবা মাহবুবুর রহমানের ব্যস্ততা। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাসফিয়া পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সঙ্গে তার বাবা মাহবুবুর রহমান। হঠাৎ মাহবুবুর রহমান বুকে প্রচ- ব্যথা অনুভব করেন। কিন্তু মেয়েকে তা বুঝতে দেননি। স্বজনরা তড়িঘড়ি করে মাহবুবুর রহমানকে একটি গাড়িতে করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে রওয়ানা হন। সঙ্গে তাসফিয়া।
গাড়ি পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে পৌঁছলে মাহবুবুর রহমানের অনুরোধে মেয়ে তাসফিয়াকে পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রের সামনে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহবুবুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। পরীক্ষার কেন্দ্রে থাকা তাসফিয়া তখনও জানে না তার বাবা আর বেঁচে নেই। আর কোনোদিন তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন না বাবা। হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার পটুয়াখালীর বাউফলে। স্বপ্ন বুননের এই পরীক্ষার আগে জীবনের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি এখন কিশোরী তাসফিয়া।
গতকাল থেকে সারা দেশে শুরু হয়েছে এসএসসি পরীক্ষা। তাসফিয়া স্থানীয় কালিশুরী এস.এ ইনস্টিটিউট থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। প্রয়াত মাহবুবুর রহমান একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। নিজের মেয়ে পরীক্ষার্থী হওয়ায় তিনি এ বছর পরীক্ষা কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। মাহবুবুর রহমানের বাড়ি উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ভড়িপাশা গ্রামে। তার মৃত্যুতে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। বাউফল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু ইউসুফ বলেন, ‘স্যার সবসময় ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতেন। আজ (গতকাল) মেয়েকে পরীক্ষায় পাঠিয়ে নিজেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন এটা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে।’
সড়ক দুর্ঘটনা, আশঙ্কাজনক এসএসসি পরীক্ষার্থী
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি জানান, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এসএসসি পরীক্ষার্থী আরাফাত (১৬) গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ রেলগেট ও জমিদার ব্রিজের মধ্যবর্তী লেকপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত আরাফাত গোয়ালন্দ পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ডের হাউলি কেউটিল এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় আরাফাত হোটেলের মালিক মো. ছোবাহান প্রামাণিকের ছেলে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ায় আরাফাতের পরীক্ষা দেওয়া হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা কুষ্টিয়াগামী ‘সততা’ পরিবহনের বাসের সামনে হঠাৎ চলে আসে আরাফাতের মোটরসাইকেল। সংঘর্ষের ফলে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসের নিচে পড়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। একপর্যায়ে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শরীফ ইসলাম জানান, আরাফাতের শরীরে একাধিক জায়গায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। আলাদিপুর হাইওয়ে থানার ওসি শামীম শেখ বলেন, ‘আহতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। যানবাহন জব্দ করে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
