জলাবদ্ধতাকে চট্টগ্রাম নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কারণ উল্লেখ করে এই সমস্যা সমাধানে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমীর শাহজাহান চৌধুরী নেতৃত্বে একটি টেকনিক্যাল টিমের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
আলোচনাকালে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা শহর। কিন্তু অপ্রস্তুত নগর পরিকল্পনা ও দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে জলাবদ্ধতা আমাদের বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। জলাবদ্ধতা চট্টগ্রাম নগরের অন্যতম বড় সমস্যা। এই সমস্যা দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রামের ৭১টি খালের মধ্যে বর্তমানে ৫৭টির অস্তিত্ব রয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৬টি খালে কাজ করছে সিডিএ আর একটিতে চসিক। বাকি ২০টি খালের উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য বড় অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে এই সংকট নিরসনে অংশ নিতে হবে।
আলোচনাকালে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বীর্যা খাল পুনঃখননের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারা এই কাজে চসিকের সহযোগিতা কামনা করে। এসময় খাল খননে এক্সেভেটর, কাঁদা অপসারণের জন্য ড্রাম ট্রাক, ভ্যানসহ অন্যান্য লজিস্টিক সাপোর্ট নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি আলোচ্য খালের ডাউন স্ট্রিম খাল চাক্তাই ডাইভারশান খালে স্থাপিত বাঁধ অপসারণে সময় নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও খালের বিএস এলাইনমেন্ট চিহ্নিত করণ ও ডিজাইন এলাইনমেন্ট প্রস্তুত, খাল সংলগ্ন রাস্তার অবৈধ স্থাপনা অপসারণ ও বৈধ স্থাপনা সাময়িক অপসারণে প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিতকরণের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। খনন ও পরিষ্কারের পর যাতে পূর্বের অবস্থায় না যেতে পারে সে বিষয়ে তদারকি নিশ্চিত করার জন্য মেয়রের সহযোগিতা এবং জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের সহায়তা প্রত্যাশা করা হয়।
বৈঠকে চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ধরনের জনকল্যাণমুখী উদ্যোগে কর্পোরেশন সবসময় সহযোগিতা করে আসছে এবং আগামীতেও তা অব্যাহত থাকবে।
মতবিনিময়কালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চসিক সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, জামায়াতের টেকনিক্যাল টিমের সদস্যরা।
