স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি বন্ধ

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:১৮ এএম

ভারত থেকে বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা, বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির সুবিধা বাতিল করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে সমুদ্রপথ বা অন্য কোনো উপায়ে সুতা আমদানি চালু

থাকবে। আর স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি বন্ধের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

গতকাল মঙ্গলবার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানায় এনবিআর। ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে আজ পুনরায় এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে এনবিআর জানায়, বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারীসহ সব স্থলবন্দর দিয়ে এখন থেকে সুতা আমদানির অনুমতি বাতিল করা হলো। তবে আগের ঘোষণা অনুযায়ী অন্য পণ্য আমদানিতে বাধা থাকবে না।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) স্থলপথে ভারতীয় সুতা আমদানি বন্ধের দাবি জানায়। সংগঠনটি দাবি করে, তুলনামূলক কম দামে ভারতীয় সুতা দেশে প্রবেশ করায় স্থানীয় সুতা উৎপাদনকারীরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। মার্চ মাসে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এনবিআর চেয়ারম্যানকে পাঠানো এক চিঠিতে দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পের সুরক্ষায় স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি সাময়িকভাবে বন্ধ করার সুপারিশ করে।

ট্যারিফ কমিশনের মতে, স্থলবন্দরগুলোতে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সুতা কাউন্ট নির্ধারণ ও পরীক্ষা করার জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি। এই পরিস্থিতিতে সমুদ্রবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির সুযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

জানা গেছে, ভারতের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলে উৎপাদিত সুতা কলকাতায় গুদামজাত করা হয়। এরপর সেখান থেকে সুতা বাংলাদেশে পাঠানো হয়। এসব সুতা তুলনামূলক কম দামে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এ কারণে দেশি সুতার পরিবর্তে স্থলবন্দর দিয়ে আসা সুতা বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে দেশের বস্ত্রশিল্প কারখানাগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে দাবি করেছিল বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ)।

জানা গেছে, চীন, তুরস্ক, উজবেকিস্তান এবং দেশে উৎপাদিত সুতার দাম প্রায় একই রকম হলেও স্থলবন্দর দিয়ে আসা ভারতীয় সুতার দাম অনেক কম থাকে। অর্থাৎ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা সুতা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে ঘোষিত দামের চেয়ে অনেক কম দামে আসে। এতে দেশের সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।

এদিকে স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি বন্ধের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের দুই শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর কার্যালয়ে এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ভারত থেকে কম সময়ে স্থলপথে সুতা আনা যায়। এতে পোশাক কারখানাগুলোর বড় ক্রয়াদেশের বিপরীতে সহজে পণ্য প্রস্তুত করা যায়। এভাবে সুতা আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হলে পোশাক তৈরির খরচ বেশি পড়বে এবং বাংলাদেশ রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় পিছিয়ে পড়বে। বিটিএমএ যে যুক্তিতে স্থলপথে সুতা আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে, তা সঠিক নয়। তিনি এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

এর আগে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছিলেন যে, দেশের উৎপাদনকারীদের পোশাক শিল্পের পুরো সুতা সরবরাহের সক্ষমতা নেই। যে কারণে বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি করা গেলে তা পোশাক রপ্তানির জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখে। কিন্তু গুটিকয়েক সুতা প্রস্তুতকারকের সুবিধা দেখতে গিয়ে পুরো পোশাক শিল্পকেই বিপদে ফেলা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত