অবশেষে পুলিশের জালে ৫০ মামলার আসামি মেহেদী 

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৩৫ পিএম

অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে চট্টগ্রাম নগরের ছিনতাই-ডাকাতি গ্রুপের অন্যতম দলনেতা আরিফ হাসান মেহেদী ওরফে পলাশ (২৭)। চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি নগরের বারিকবিল্ডিং এলাকায় আভিযানে গেলে দুই পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত পালিয়ে গিয়েছিলেন দুর্ধর্ষ এই ছিনতাইকারী। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) ভোরে বারিক বিল্ডিংয়ের আস্তানা থেকে মেহেদীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

মেহেদীর আস্তানা থেকে ইতালির তৈরি ৭ পয়েন্ট ৬৫ এমএম পিস্তল গুলি, ৫০ রাউন্ড কার্তুজ, টিপ ছোরা, চায়নিজ কুড়াল, দুটি ছুরি জব্দও করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ২টায় নগর পুলিশের সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) হোসাইন মো. কবির ভূইয়া জানান, মেহেদীর কাছ থেকে উদ্ধার করা বিদেশি পিস্তলটি গতবছরের ৫ আগস্ট ডবলমুরিং থানা থেকে লুট করা। 

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, নগরে ছিনতাই ও ডাকাতি গ্রুপের অন্যতম দলনেতা এই মেহেদী। তার অন্যতম সহযোগী মনির ও পিচ্ছি জাহিদ। মনির ও পিচ্ছি জাহিদের বিরুদ্ধে একডজন করে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মামলা আছে। এরমধ্যে মেহেদীর বিরুদ্ধেই আছে অর্ধশত চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা। এই তিনজনের নেতৃত্বে আছে আরও ১০ থেকে ১৫জন সদস্য। তাদের মূল আস্তানা বারিকবিল্ডিং এলাকায়। মেহেদীর নেতৃত্বে নগর জুড়ে তারা অপরাধ কর্মকাণ্ড চলে আসছিল। সম্প্রতি নগরের ওয়ান ব্যাংকে, আগ্রাবাদের ‘ক্যাট’ নামক প্রতিষ্ঠানে ডাকাতির ঘটনাতে জড়িত ছিল মেহেদীর সিন্ডিকেট।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা হোসাইন মো. কবির বলেন, ‘বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এবং কমার্শিয়াল হাবগুলোতে সম্প্রতি ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গিয়েছে। গত ১ এপ্রিল দিবাগত রাত ৩টা থেকে ৪টার দিকে পাঁচলাইশ থানার সুগন্ধা এলাকার একটি বাসা থেক ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ৭ লাখ টাকা এবং ৫ হাজার ইউএস ডলার চুরি করে মেহেদী ও তার সহযোগীরা। পরে তাদের ধরতে নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযানে চালায় পুলিশ। হাটহাজারীতে অভিযানে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় আরিফ, রাজু এবং মেহেদী। তবে তাদের সহযোগীদের রিয়াদ হোসেন বাচ্চু, জয়নাল আবেদীন, জসিম উদ্দিন, তৌহিদ রাকিব, বাদশা মিয়াকে আমরা আটক করেছি। জিজ্ঞাসাবাদের তারা পুলিশকে জানায়, চট্টগ্রাম শহরে চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মূলহোতা মেহেদী, মনির ও পিচ্চি জাহিদ। বড় বড় কমার্শিয়াল হাবে ডাকাতি করে যাচ্ছে ওই তিনজন।’

সিএমপির কর্মকর্তারা জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে বারিক বিল্ডিং মোড়ে অভিযান চালানোর সময় দুজন পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় মেহেদী ও তার  সহযোগীরা। তবে সেসময় মো. তারেক, মো. জুয়েল ও জাহেদুল ইসলাম নামের তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সেদিন আস্তানায় বসে ডাকাতির টাকা ভাগবাটোয়ারা করছিল তারা। মেহেদীর চক্রে যোগ দিয়েছে রাতুল, হানিফ, নুরুন্নবি, শ্রাবণ ও বদর। চক্র বড় বড় ফাইনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানগুলো টার্গেট করে তারা। তাদের দেহ খুবই স্লিম। তারা রড কেটে ঢুকে যায়। মেহেদীর সহযোগীরা অন্য কোনো পেশায় জড়িত না। তবে মেহেদী অটোরিকশা চালায়।

সিএমপির উপকমিশনার হোসাইন মো. কবির ভূইয়া আরও বলেন, ‘আমরা মেহেদীর কাছ থেকে যে অস্ত্রটি উদ্ধার করেছি সেটি ডবলমুরিং থানায় বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের জমা রাখা একটি অস্ত্র। সেটি ইতালির তৈরি ৭ পয়েন্ট ৬৫ এমএম পিস্তল থানা থেকে গত ৫ আগস্ট লুট হয়েছিল। কার্তুজগুলোও থানা থেকে লুট করা। এই চক্রটি ৫ আগস্টের আগেও ছিল। তাদের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। যাদের আমরা এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেছি; তারা ৯০ শতাংশই চট্টগ্রামের বাইরের।’ 

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বারিক বিল্ডিং এলাকায় ছিনতাইকারীদের আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত  হন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আহলাত ইবনে জামিল ও মো. নজরুল ইসলাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত