ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মিয়ানমারে উদ্ধার তৎপরতা এবং জনগণের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে জান্তা সরকার ও দেশটির প্রধান বিরোধী দল ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (নাগ)। শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০ দেশের জোট আসিয়ানের বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ার ইব্রাহিম।
সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে মিয়ানমারের জান্তা প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং এবং দেশটির প্রধান বিরোধী জোটের প্রতিনিধির সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন তিনি। বৈঠকে উভয়ই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মিয়ানমারের সরকারপ্রধান এবং বিরোধীদলীয় জোট নাগের সঙ্গে বৈঠকটি ফলপ্রসূ হয়েছে। উভয়ই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মতি দেওয়ায় আমরা আশা করছি দেশটিতে অপ্রয়োজনীয় উসকানিমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না। কারণ যদি তা ঘটে, তাহলে সেখানে সব ধরনের মানবিক তৎপরতা ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২০২২ সালে ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন এনএলডি সরকারকে উচ্ছেদ করে মিয়ানমারের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং এ অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অভ্যুত্থানের পর সামরিক শাসন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে মিয়ানমারের শান্তিকামী জনতা। সেই বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেয় সামরিক সরকার। প্রায় ছয় মাস এই পরিস্থিতি চলার পর মিয়ানমার জুড়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে জান্তাবিরোধী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী। ফলে এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হয় দেশটিতে।
এর মধ্যে গত ২৮ মার্চ ৭ দশমিক ৭ এবং ৬ দশমিক ৭ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয় মিয়ানমারে। বিপর্যস্ত-বিধ্বস্ত মিয়ানমারে উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রাণ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ২ এপ্রিল ২০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে জান্তা। আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, আঞ্চলিক জোট হিসেবে মিয়ামনারের প্রতিটি ক্ষেত্রে আসিয়ানের সংযুক্ত থাকা উচিত। তবে এ সংযুক্তিকে যেন দেশটির সামরিক সরকার নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য কোনোভাবেই ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকেও আমাদের লক্ষ রাখতে হবে।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, পুতিনকে চিঠি ইরানের খামেনির