ফেনীর সোনাগাজীতে যৌথবাহিনীর অভিযানে মিজানুর রহমান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মিজানুর রহমান উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চরচান্দিয়া গ্রামের লন্ডী পাড়া গ্রামের মৃত আবদুল হালিম মেম্বারের ছেলে।
যৌথবাহিনী দাবি করেছে গ্রেপ্তারের পর তার বসতঘর থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ধৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সোনাগাজী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক সাইদ মিয়া বাদি হয়ে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের পর তাকে রবিবার বিকালে ফেনীর আদালতে সোপর্দ করেছেন।
পুলিশ জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় ফেনী সদর থানায় দায়েরকৃত বিস্ফোরক আইনের মামলার আসামি মিজানুর রহমানের বসত ঘর তল্লাশি করেন যৌথবাহিনীর সদস্যরা। এ সময় তার শয়ন কক্ষের পূর্ব পাশের বেলকনি হতে নীল রংয়ের শপিং ব্যাগ মোড়ানো অবস্থায় একটি দেশীয় তৈরী পাইপ গান এবং একটি নীল রংয়ের তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে ধৃত ব্যক্তির ভাই ঢাকার আবাসন ব্যবসায়ী এম ফখরুল ইসলাম ফেসবুক লাইভে দাবি করেছেন পারিবারিক বিরোধ ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিয়েছে। তিনি সিসিটিভি ফুটেজের প্রসঙ্গ এনে জানায় আমাদের বসতঘর থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়নি। যৌথবাহিনী সিসিটিভি ডিভিআর মেশিন নিয়ে গেলেও অপর একটি সিসি ক্যামরার ফুটেজে সব ধরা পড়েছে। তিনি আরও জানান, ফেনীতে যে মামলার কথা বলা হচ্ছে সেই মামলার জামিনে রয়েছে। বাদী আদালতে এফিডেভিট দিয়ে বলেছে ঘটনার সাথে আমার ভাইয়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এদিকে ধৃত ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও ধুম্রজাল তৈরী হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ছবিতে দাবি করা হয়েছে তিনি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও যুবলীগ রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। তবে স্থানীয় এলাকাবাসীর অনেকের অভিমত তিনি সক্রিয়ভাবে কোন দলের সাথে জড়িত ছিলেন না।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বায়েজীদ আকন গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
