বিদেশি এনে লাভ নেই, উইকেট বদলাতে হবে: মুমিনুল 

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:১৫ পিএম

বাংলাদেশ টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে প্রায় পঁচিশ বছর হতে চলল। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে সেই টেস্ট ভাবনার প্রতিচ্ছবি দেখা যায় কই? একের পর এক মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট হলেও মাঠের খেলায় কিংবা পরিবেশে তার ছিটেফোঁটাও নেই। প্রথমবার রঞ্জি ট্রফির নাম শুনলেই যেন ভারতের ক্রিকেট ঐতিহ্যের গন্ধ পাওয়া যায়। কাউন্টি ক্রিকেট মানেই যেন এক ইতিহাসের ছোঁয়া। অথচ এনসিএল কিংবা বিসিএলের নাম শুনে কজনই বা আবেগে ভাসেন?

কারণ গ্ল্যামার নেই, চ্যালেঞ্জিং উইকেট নেই। টানটান উত্তেজনার লড়াই হয় সামান্যই। আর যে উইকেটে খেলা হয়, সেটিও আবার স্পিন কিংবা ফ্ল্যাট উইকেট বলে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হয় প্রায়ই। এই প্রেক্ষাপটে আলোচনা উঠেছে, বিদেশি ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্তি কি ঘরোয়া ক্রিকেটের মান বাড়াতে পারত? যেমন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে একসময় বিদেশি ক্রিকেটারের অন্তর্ভুক্তি শোভা বাড়াত প্রতিযোগিতার। তেমনই এনসিএল বা বিসিএলেও যোগ কার যায় কিনা?

এমন প্রশ্ন কাল ছুটে গিয়েছিল বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হকের দিকে। সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে যিনি দলের প্রতিনিধি হয়ে এসেছিলেন। তিনি অবশ্য বিদেশী ক্রিকেটারের বিরোধীতা করলেন। কারণ মান বা শোভা বাড়াতে বিদেশীতে ঝুঁকতে নাকি হয় না। সিলেট টেস্টের মতো চ্যালেঞ্জিং উইকেট ঘরোয়া ক্রিকেটে দিলে মান ও ক্রিকেটারদের দক্ষতা দুটোই বাড়বে। 

তৃতীয় দিনে ৪৭ রান করার পথে মুমিনুল হক। ছবি: দেশ রূপান্তর

জাতীয় দলের এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বলেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে মান বাড়াতে হলে বিদেশি এনে লাভ নেই। উইকেট বদলাতে হবে। যতদিন না উইকেট পরিবর্তন করবেন, ততদিন মান বাড়বে না। উইকেট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সিলেটের এই উইকেট খুব চ্যালেঞ্জিং। এই উইকেট দিলে হয়ত পেসারদের ভালো হবে। প্রত্যেক বিভাগে এরকম সুযোগ-সুবিধা বাড়বে। এই ধরনের উইকেটে খেললে কয়েক বছর পর মান এমনিতেই বাড়বে।’

ঘরোয়া ক্রিকেটে গত কয়েক বছর ধরে ফ্ল্যাট ও স্পিন উইকেট দিয়েই খেলা হয়েছে। ফলে পাইপলাইনে থাকা ক্রিকেটারদের মান বাড়েনি। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও এতেই অভ্যস্ত। যার প্রভাব পড়েছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে। এমনিতে সিলেটের উইকেট বাউন্সি, যেখানে সকালের দিকে পেসাররা সিম মুভমেন্ট ও সুইং পেয়ে থাকেন। তৃতীয় দিনের শেষে সেই বাউন্সার ওতটা কার্যকর থাকত না। সেই বাউন্সারগুলো সুন্দর ব্যাটে আসত। ব্যাটসম্যানরাও রান পেতেন। তবে এবার উইকেটে এখনও ঘাস আছে। ফলে শুধু পেসার বা ব্যাটাররাই নন, স্পিনাররাও ফায়দা নিতে পারছেন। প্রপার স্পোর্টিং উইকেট যাকে বলে সেটাই। যে কারণে ব্যাটসম্যানদের একটু জিম্বাবুয়ের বোলারদের সামলানো কঠিন হচ্ছে।

এমন উইকেটেও তিনি চান ৩০০ রানের লক্ষ্য দিতে প্রতিপক্ষকে। তিনি বলেন, ‘৩০০ রানের উপরে দিলে ভালো। ৩০০ না হলেও ২৭০-৮০, ৩০০ হলে আরও বেটার পজিশনে চলে যাব আমরা। হ্যাঁ আত্মবিশ্বাসী কারণ তাদের পরে যারা আছে তাইজুল, হাসান এরাও ব্যাট করতে পারে। এজন্য আত্মবিশ্বাসটা বেশি আরকি। এক্সট্রা বাউন্স আর শর্ট বলের মধ্যে পার্থক্য আছে। অই বোলারটা ৬ ফিট ৮ ইঞ্চি সে এক্সট্রা বাউন্স পায়। এক্সট্রা বাউন্সে অনেক ক্ষেত্রে ব্যাটারদের হাতে কোনো অপশন থাকে না। তবে একজন ব্যাটার হিসেবে অপশন খুঁজে পেতে হবে কীভাবে আপনি এটা ম্যানেজ করতে হবে।’

মুমিনুল বিশ্বাস করেন উইকেট যত চ্যালেঞ্জিং হবে, ক্রিকেটারদের মানও তত উন্নত হবে। তাই সংস্কারের সূচি উইকেট থেকেই শুরু হওয়া দরকার বলে মুমিনুল বুঝিয়ে দিলেন। তার এই কথার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বিসিবির পরিচালক ও ক্রিকেট অপারেশনসের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিম। তিনি বলেন, 'হ্যা এই উইকেট ব্যাটসম্যানদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং। তবে তারা অভিযোগও করতে পারবে না। এই ধরনের উইকেট যে বাংলাদেশেও বানানো যায়, সেটা আমরা দেখাতে পেরেছি। ভারত সেটা ২০ বছর আগেই করেছে, তাই তাদের ক্রিকেটও অন্য স্তরে পৌঁছে গেছে।'

চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু সরবরাহে সংকট। টেস্টকে বাঁচাতে হলে, প্রথমে ঘরোয়া ক্রিকেটকে প্রাণ দিতে হবে। কারণ শিকড় শক্ত না হলে, গাছের ডালপালা ছড়ায় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত