বহুল আলোচিত ও সমালোচিত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিস’ জারি করেছে বিশ্বের সর্বোচ্চ পুলিশ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)। বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর। তবে ইন্টারপোলের নিজস্ব ওয়েব পেজে রেড নোটিসের তালিকায় বেনজীর আহমেদের নাম না থাকায় রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত ইন্টারপোল যাদের তালিকাভুক্ত করে তাদের নাম ও ছবি ওয়েব পেজে দিয়ে থাকে। বর্তমানে সংস্থাটির পেজে বাংলাদেশের ৬৩ জনের ছবি ও নামসহ রেড নোটিসের তালিকা রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, গত ১০ এপ্রিল এই রেড নোটিস জারি করা হয়। পতিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আরও ১১ জনের বিরুদ্ধেও রেড নোটিস জারির বিষয়টি ইন্টারপোলে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। আদালতের নির্দেশনায় প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ) অথবা তদন্ত সংস্থার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি শাখা ইন্টারপোলে রেড নোটিস জারির আবেদন করে থাকে।
পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার একটি আদালত সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারির জন্য ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়। এরপর গত ফেব্রুয়ারি মাসে বেনজীরের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করা হয়। বেনজীর সপরিবারে পলাতক। কোন দেশে আছেন, তা এখনো আমরা নিশ্চিত হতে না পারলেও তিনি স্পেন আছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।
তিনি আরও বলেন, বেনজীরের বিরুদ্ধে রেড নোটিসটি এখনো ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়নি। তার অবস্থান শনাক্ত করার পর সেটি ওয়েবসাইটে দেওয়া হতে পারে বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে। এজন্য বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। তবে রেড নোটিস জারির বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশকে ইমেইলের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে ইন্টারপোলের পক্ষ থেকে।
পুলিশ সদর দপ্তরের অন্য এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আরও ১১ জনের বিরুদ্ধে তিন দফায় ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। চিঠিপত্র আদান-প্রদান ছাড়াও একটি ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও রেড নোটিস জারির বিষয়টি পর্যালোচনা করছে ইন্টারপোল।
জানা গেছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পদত্যাগ ও দেশ থেকে পালানো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিস’ জারির জন্য আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের কাছে পৃথক তিন ধাপে আবেদন করেছে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। যাদের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারির আবেদন পর্যালোচনা করছে তারা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ।
ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুদক। অনুসন্ধান চলাকালে গত বছর ৪ মে সপরিবারে দেশ ছাড়েন তিনি। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপির দায়িত্ব পালন করা বেনজীর ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত র্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, খুন, দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগের তদন্ত চলছে।
