ফারুক আহমেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার হয়েছে: বিসিবি

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৫০ পিএম

সম্প্রতি দেশের একটি গণমাধ্যমে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের আর্থিক লেনদেন বিষয়ক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সেই সংবাদ নিয়ে দেশের ক্রিকেটে চলছে তোলপাড়। ফারুক নাকি বিসিবির তহবিল থেকে অর্থ তুলে নিয়েছেন! এবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

আজ শনিবার বিসিবির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জাতীয় গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে বোর্ডের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিসিবির মতে, এসব প্রতিবেদন ভুল, বিভ্রান্তিকর এবং বোর্ড ও এর সভাপতি জনাব ফারুক আহমেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। বিসিবি তার সব ধরনের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাম্প্রতিক দাবির প্রেক্ষিতে, জনসাধারণ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ গণমাধ্যমকর্মীদের সুবিধার্থে বিসিবি নিম্নোক্ত ব্যাখ্যা প্রদান করছে।’

‘২০২৪ সালের আগস্টে বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর জনাব ফারুক আহমেদ বোর্ডের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেন। বিশেষ করে বিগত বছরগুলোতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখা হয়।’

‘এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, বিসিবি তার ব্যাংকিং সম্পর্কগুলোর পুনর্মূল্যায়ন করে এবং কেবল বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গ্রিন ও ইয়েলো জোনভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে লেনদেন করার কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে, বিসিবি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলো থেকে ২৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করে এবং এর মধ্যে ২৩৮ কোটি টাকা গ্রিন ও ইয়েলো জোনের ব্যাংকে পুনঃবিনিয়োগ করে। অবশিষ্ট ১২ কোটি টাকা বিসিবির দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় নির্বাহের জন্য একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়।’

‘উল্লেখযোগ্য যে, ব্যাংকিং অংশীদার পরিবর্তন বা ব্যাংকের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বিসিবি সভাপতির একক সিদ্ধান্তে হয় না। এ সংক্রান্ত সকল ব্যাংকিং লেনদেনে বিসিবির দুইজন স্বাক্ষরকারী রয়েছেন—বিসিবি অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান জনাব ফাহিম সিনহা এবং টেন্ডার ও ক্রয় কমিটির চেয়ারম্যান জনাব মাহবুবুল আনাম। এসব বিষয়ে বোর্ড সভাপতির কোনো স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয় না। বিসিবি জানে, ক্রিকেট প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে কিছু অশুভ ও স্বার্থান্বেষী মহল বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন ও কার্যক্রম ব্যাহত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। বিসিবির তহবিল ও কার্যক্রমের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা জোরদারের পেছনে এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল।’

‘২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বিসিবি ১৩টি গ্রিন ও ইয়েলো জোনভুক্ত ব্যাংকের সঙ্গে তহবিল সংরক্ষণের দায়িত্ব অর্পণ করে। এর ফলে বোর্ডের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং সর্বোত্তম সুদের হার অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। এর মাধ্যমে বিসিবির স্থায়ী আমানতের সুদের আয়ে ২-৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া, গত ছয় মাসে বিসিবি তার বর্তমান তিনটি ব্যাংকিং অংশীদারের কাছ থেকে প্রায় ১২ কোটি টাকার স্পনসরশিপ সহায়তা পেয়েছে।’

‘পাশাপাশি, অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহারের জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকার অতিরিক্ত স্পনসর বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যা এই আর্থিক সম্পর্কগুলোর দৃঢ়তা ও গভীরতাকে প্রমাণ করে। বিসিবি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রকৃত ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তদন্ত ও পর্যবেক্ষণকে স্বাগত জানায়। একইসঙ্গে, বিসিবি অনুরোধ করছে যাতে কোনো গণমাধ্যম ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ না করে যা বাংলাদেশের ক্রিকেট এবং এর সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের সম্মান ক্ষুণ্ন করতে পারে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত