কিলিয়ান এমবাপ্পের বিদায়ের পর অনেকেই ভেবেছিল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) হয়তো ছিটকে পড়বে। তবে লুইস এনরিকের দল এবার ইতিহাস গড়ার এক দারুণ সুযোগে তৈরি করেছে, যা হবে তাদের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ।
তবে, যদি পিএসজি সত্যিই এবার ইউরোপ সেরা হয়, তারা একমাত্র ক্লাব হবে না যারা তাদের সেরা খেলোয়াড় বিক্রি করার পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে। আধুনিক ফুটবলে এমন ঘটনা বহুবার ঘটেছে। নিচে তেমনই সাতটি উদাহরণ:
১. রিয়াল মাদ্রিদ – ২০২৪
কারিম বেনজেমার বিদায়ে ২০২৩-২৪ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগকে নিয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। তবে ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম দুর্দান্ত অভিষেক মৌসুম কাটিয়ে ২৩টি গোল করেন। বদলি স্ট্রাইকার হোসেলুও বড় অবদান রাখেন। সবমিলিয়ে, ডর্টমুন্ডকে হারিয়ে রিয়াল ১৫তম চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি জেতে ওয়েম্বলিতে।
২. চেলসি – ২০২১
ইডেন হ্যাজার্ডের বিক্রির পর চেলসির সমর্থকরা হয়তো আশা করেননি যে তারা দ্রুত ইউরোপের সেরা হবে। কিন্তু ২০২১ সালে টমাস টুখেলের অধীনে তারা সঠিক সময়ে ছন্দ খুঁজে পায়। ট্যামি আব্রাহাম ও টিমো ভের্নার ছিলেন মৌসুমের শীর্ষ গোলদাতা, যদিও সংখ্যাটা ছিল মাত্র ১২। সুদৃঢ় ডিফেন্স ও টুখেলের ট্যাকটিকসে তারা চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি ঘরে তোলে।
৩. লিভারপুল – ২০১৯
ফিলিপে কুটিনহোর বার্সেলোনায় যাত্রার পর অনেকে হতাশ হয়েছিলেন। কিন্তু সেই ট্রান্সফার ফি দিয়েই অলরেডস দল গুছিয়ে নেয়। ২০১৯ সালে তারা বার্সার বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে ফিরে এসে ফাইনালে যায় এবং ট্রফি জেতে। কুটিনহো পরে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চ্যাম্পিয়নস জিতলেও সেটা লিভারপুলের মতো আবেগঘন ছিল না।
৪. ইন্টার মিলান – ২০১০
জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ বার্সেলোনায় যোগ দিলে ইন্টার তাকে বদলে স্যামুয়েল ইতোকে দলে আনে। প্রথম মৌসুমেই এট’ও দলকে ত্রিমুকুট জেতাতে সাহায্য করেন। হোসে মরিনহোর দুর্দান্ত পরিকল্পনায় ইন্টার ইউরোপ জয় করে, আর ওদিকে ইব্রা বার্সায় ধাতস্ত হতে হিমশিম খায়।
৫. বার্সেলোনা – ২০০৯
২০০৮ সালে রোনালদিনহো ক্লাব ছাড়েন। এরপর নতুন কোচ পেপ গার্দিওলার অধীনে বার্সা দল পুনর্গঠন করে। সেই মৌসুমেই তারা অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতে, যেটি ছিল ত্রিমুকুটের প্রথম ধাপ।
৬. এসি মিলান – ২০০৭
আন্দ্রেই শেভচেঙ্কো ২০০৬ সালে চেলসিতে যোগ দেন রেকর্ড ট্রান্সফারে। চেলসি ভেবেছিল তারা বড় কিছু পেয়ে গেছে, কিন্তু শেভচেঙ্কো ইংল্যান্ডে খুঁজে পাননি তার ফর্ম। বিপরীতে, তার বিদায়ের পর পরেই মিলান ইউরোপ সেরা হয়।
৭. লিভারপুল – ২০০৫
মাইকেল ওয়েন রিয়াল মাদ্রিদে পাড়ি জমানোর পর রাফায়েল বেনিতেজের লিভারপুল দলে ধারাবাহিকতা ছিল না। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগের রাত এলেই সবকিছু বদলে যায়। তারা ফাইনালে এসি মিলানের বিপক্ষে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচ জিতে নেয়। ওয়েন অবশ্য এক বছরেই রিয়াল ছাড়তে বাধ্য হন।
সেঞ্চুরি আর ফাইফার, মিরাজ বললেন ‘অর্জনটা স্পেশাল’