‘বিএনপি যতদিন ক্ষমতায় না আসবে ততদিন ভাত খাব না’

আপডেট : ০১ মে ২০২৫, ০৭:৪৯ এএম

‘বিএনপি যতদিন ক্ষমতায় না আসবে ততদিন ভাত খাব না’। ঝিনাইদহের নিজাম উদ্দিন এমন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন ১১ বছর আগে। এই ১১ বছর বিএনপি ক্ষমতায় আসেনি নিজামও ভাত খাননি। ফলে আজ তিনি শয্যাশায়ী; জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

২০১৪ সালে রাজনৈতিক অপমান থেকে জন্ম নিয়েছিল এই প্রতিজ্ঞা। তা তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালনও করেছেন। এখন শারীরিক গভীর জটিলতা। ঘটনার সূত্রপাত ২০১৪ সালে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিজ এলাকায় রান্না করা খাবার স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাটিতে ফেলে দেয়। সেই অপমানের জবাবে নিজাম উদ্দিন ঘোষণা দেন, যতদিন বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় না আসবে, ততদিন তিনি ভাত খাবেন না। এরপর  পরিবারের শত অনুরোধেও প্রতিজ্ঞা ভাঙেননি তিনি। দীর্ঘ ১১ বছর ভাত থেকে বিরত থেকে তিনি এখন মৃত্যুসজ্জায়।

চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, তার দেহে ক্যানসারের লক্ষণ বিদ্যমান। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিষয়টি সামনে আসে। সেখানে তিনি সহকারী অধ্যাপক ডা. মৃধা মো. শাহিনুজ্জামান ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. রুফাইদা ইসলামের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এদিকে নিজাম উদ্দিনের শারীরিক অবস্থা জানার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ পাওয়ার পর বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’র আহ্বায়ক ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমনসহ একটি প্রতিনিধিদল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নিজাম উদ্দিন ও তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর তারেক রহমানের সহানুভূতি ও সমর্থন তুলে ধরেন। পরে দ্রুত একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নিজাম উদ্দিনকে ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ) হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে তিনি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. সোহেল মাহমুদ আরাফাতের অধীনে চিকিৎসাধীন। ওই প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একে এম কিবরিয়া স্বপন, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা আলমগীর কবিরসহ ফরিদপুর জেলা ড্যাবের সাবেক সভাপতি প্রফেসর ডা. মোস্তাফিজুর রহমান শামীম, মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. খান মো. আরিফ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহিনুর ইসলাম প্রমুখ।

বিএনপি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনীতি যখন শুধুই ক্ষমতার কূটচাল, তখন নিজাম উদ্দিনের মতো মানুষ মনে করিয়ে দেয় আদর্শ এখনো জীবিত। যখন রাজনৈতিক কর্মী বা অনুসারীরা সুবিধা পেলেই দল বদলান, তখন নিজাম উদ্দিনদের মতো একজন সাধারণ কর্মীর প্রতিজ্ঞা প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। কে বেশি অনুগত? নেতা না কর্মী?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত