হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, পাঁচটি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ না করা পর্যন্ত কেয়ামত দিবসে আদম সন্তানের পদদ্বয় নড়বে না।
এক. মানুষকে তার বয়স সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, কীভাবে তা অতিবাহিত করেছে? প্রতিটি মুমিনের করণীয় হলো মহান আল্লাহ প্রদত্ত এ জীবনটাকে একনিষ্ঠতার সঙ্গে তারই আনুগত্যে ব্যয় করা।
দুই. যৌবন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, কীভাবে তা কাটিয়েছে? মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো যৌবনকাল। এ সময় শারীরিক শক্তিমত্তা, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি সবকিছুই থাকে পূর্ণমাত্রায়। অনেক দুঃসাধ্য কাজও সহজেই করে ফেলা যায়। তাই মহান আল্লাহর কাছেও বান্দার যৌবনকালের ইবাদত বেশি পছন্দ। যদিও অনেকের ধারণা যৌবনের এ সময়টা শুরু আনন্দ-ফুর্তির।
তিন. সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, কীভাবে তা উপার্জন করেছে? উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল পন্থা অবলম্বন করা ফরজ। উপার্জন যদি হালাল না হয়, তাহলে ইবাদত কবুল হয় না। তাই হালাল উপার্জনের গুরুত্ব অপিরিসীম।
চার. সম্পদ কোন পথে খরচ করেছে, সেটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ধনসম্পদ আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত। অন্যের প্রাপ্র অধিকার হরণ, হালাল-হারামের তোয়াক্কা না করা, কিংবা যেকোনো অসদুপায়ে জীবিকা নির্বাহ ইসলামে সুস্পষ্ট নিষেধ। বৈধপথে সম্পদ উপার্জন এবং তা সঠিক খাতে ব্যয় করাও ইসলামের অপরিহার্য বিধান।
পাঁচ. অর্জিত ইলম অনুযায়ী আমল করেছে কি না, সেটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আমলহীন ইলমের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হলো। হজরত আবু বারজা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষকে কল্যাণের শিক্ষা দান করে অথচ নিজের (আমলের) কথা ভুলে যায়, তার উদাহরণ হচ্ছে চেরাগের মতো। চেরাগ মানুষকে আলো প্রদান করে ঠিকই কিন্তু নিজেকে জ্বালিয়ে দেয়। (অর্থাৎ মানুষ উপকৃত হয় ঠিকই, কিন্তু আমল না করার কারণে সে নিজের ক্ষতিসাধন করে)। (সহিহ আত তারগিব ওয়াত তারহিব ১২৮)
