উত্তরায় পাঁচতলা বাড়িতে থাকার অধিকার হারালেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ।
মা শামসুন্নাহার বেগম ও ভাই শিশির আহমেদ শাহনেওয়াজ আহমেদের বসবাস করা নিয়ে বিচারিক আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ বাতিল করে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
এর ফলে উত্তরার এই বাড়িতে তুরিন আফরোজের মা শামসুন্নাহার বেগম ও ভাই শিশির আহমেদ শাহনেওয়াজ আহমেদ বসবাস করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। সোমবার (৫ মে) বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে বাড়ি সংক্রান্ত মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
আদালতে তুরিন আফরোজের মা ও ভাইয়ের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হায়দার। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম জোবায়ের। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। তুরিনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আখতার হামিদ।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরায় পাঁচতলা বাড়িতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের মা শামসুন্নাহার বেগম ও ভাই শিশির আহমেদ শাহনেওয়াজ আহমেদের বসবাস করা নিয়ে বিচারিক আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ বাতিল করে দেন হাইকোর্ট।
এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। পরে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন তুরিন আফরোজ।
মামলার বিবরণে জানা যায়, রাজধানীর উত্তরার রেসিডেনন্সিয়াল মডেল টাউনের ৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর সড়কের ১৫ নম্বর প্লটের পাঁচতলা বাড়িতে ২০০২ সাল থেকে বসবাস করে আসছিলেন শামসুন্নাহার বেগম ও তার ছেলে শিশির আহমেদ শাহনেওয়াজ। তবে নিজের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে শামসুন্নাহার বেগম ও শাহনেওয়াজকে ওই বাড়ি থেকে ২০১৭ সালে বের করে দেন তুরিন আফরোজ। পরে ওই বাড়ির ভোগ দখল ও মালিকানা দাবি করে শাহনেওয়াজ ও তুরিন আফরোজ ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দুটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর দুই পক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে ওই বাড়ি ভোগদখলের ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা জারি করে ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম জেলা জজ আদালত। এরপর যুগ্ম জেলা জজ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে আবেদন করেস শাহনেওয়াজ। পরে ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি যুগ্ম জেলা জজ আদালতের আদেশ বহাল রাখেন জেলা জজ আদালত। এরপর ২০২৩ সালের মার্চে জেলা জজ আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন দায়ের করেন শাহনেওয়াজ।
২০২৩ সালের ২ এপ্রিল বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ উত্তরায় ওই বাড়ি ভোগদখলের ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থার আদেশ কেন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হবে, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। পরে আদালত পরিবর্তিত হয়ে মামলাটি বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে আসে। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল যথাযথ (অ্যাবসুলেট) ঘোষণা করে স্থিতাবস্থা বাতিল করে রায় দেন।
এরপর বাড়ির ভোগদখল ও মালিকানা দাবি করে দায়ের করা দুটি মামলাই বিচারিক আদালতে স্বাভাবিক নিয়মে চলবে বলে জানান আইনজীবী আতিকুল হক।
পাকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়েও ভারতের নতুন পরিকল্পনা
ফরিদপুরে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, নিহত ১