গাজীপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর গাড়িতে হামলার ঘটনায় ১০০ জনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (৫ মে) সোমবার সন্ধ্যায় এনসিপির প্রতিনিধি আল আমিন খন্দকার বাদী বাসন থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ের আরো অনেককে আসামি করা হয়।
বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীন খান জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধি আল আমিন খন্দকার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে সিটি কর্পোরেশনের বাসন থানার ১৪নং ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন রাব্বিকে।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- সাবেক মন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. আকম মোজাম্মেল হক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, রুমানা আলী টুসি, তার ভাই আওয়ামী লীগ নেতা জামিল হাসান দুর্জয়, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক এমপি ইকবাল হোসেন সবুজ, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল, শ্রীপুরের আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল, সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি রীনা পারভীন, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন সরকার, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুলতান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক নাসির মোড়ল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রবিন প্রমুখ।
এদিকে অপরাধীদের ধরতে রবিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে ৫৪ জনকে আটক করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে ৪৩ জনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাকী ১১জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জাহিদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃতদের মধ্যে প্রায় সকলেই আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সদর থানায় ৫ জন, বাসন থানায় ১২ জন, কোনাবাড়ি থানায় ৬ জন, কাশিমপুর থানায় ২ জন, গাছা থানায় ৪ জন, পূবাইল থানায় ৫ জন, টঙ্গী পূর্ব থানায় ১ জন, পশ্চিম থানায় ৩ জন, ডিবি উত্তর ৯ জন ও ডিবি দক্ষিণ ৭ জনকে আটক করা হয়।
এদিকে হাসনাত আবদুল্লাহর ওপর হামলার পর রবিবার রাত থেকেই থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। এর আগে রবিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করে পুলিশ। তারা হলেন- গাজীপুর মহানগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ নেতা নিজাম উদ্দিন ও কাশিমপুর থানা শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদের সভাপতি মাসুম আহমেদ ওরফে দিপুকে আটক করা হয়।
জানা গেছে, রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তার কাছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, নগরীর চান্দনা চৌরাস্তার উত্তরপাশে উল্কা সিনেমা হলের কাছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পেছন থেকে মোটরসাইকেলযোগে দুর্বৃত্ত এসে হাসনাত আব্দুল্লার গাড়ি গতিরোধ করে হামলা চালায়। হামলায় তার গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এপরপরই এলাকায় ব্যাপক অভিযান শুরু করা হয়। অভিযান চালিয়ে সোমবার সকাল পর্যন্ত ৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। হামলাকারীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত আছে।
ঢাকার পথে খালেদা জিয়া
দেশের পথে খালেদা জিয়া: অভ্যর্থনা জানাতে বিএনপির ব্যাপক প্রস্তুতি
এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯.১৭ শতাংশ