শরীয়তপুরের জাজিরায় এক অসহায় পরিবারের জমি দখল করার অভিযোগ উঠেছে সাবেক ওসি ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে। উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের দাইমুদ্দিন খলিফাকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার কার্যালয় ও জাজিরা থানায় অভিযোগ না নেওয়ায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাইমুদ্দিন খলিফাকান্দি এলাকায় এক একর ২০ শতাংশ জমির পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে মালিক মনসুর আলী মনছুর। ওই জমি ১৯৮৬ সালে একই এলাকার তোতা মিয়া চোকদারকে (৬০) চুক্তিতে দেন মনছুর। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তোতা মিয়া, তার ভাই ঢাকার ডেমরা থানার সাবেক ওসি জহিরুল ইসলাম (৪৯) ও রাজ্জাক চোকদার (৭০) সেই জমি দখল করে রেখেছেন। জমি ফেরত চাওয়ায় মনছুর ও তার স্ত্রী মাসহুদা বেগমকে প্রাণনাশেরও হুমকি দিচ্ছেন জহিরুল ও তার ভাইয়েরা। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার কার্যালয় ও জাজিরা থানায় অভিযোগ না নেওয়ায় গত ২৭ এপ্রিল জমি ফেরত পেতে ও নিরাপত্তা চেয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মনছুরের স্ত্রী মাসহুদা বেগম।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ডেমরা থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন জহিরুল ইসলাম। ৫ আগস্টের পর তাকে বান্দরবান জেলার পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে তার মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মনছুরের স্ত্রী মাসহুদা বেগম বলেন, ‘ওসি জহিরুল ইসলাম ও তোতা মিয়া চোকদারকে জমি চুক্তিতে দিয়েছিলাম। কিন্তু চুক্তির মেয়ার শেষ হওয়ার পরও তারা আমাদের জমি দখল করে রেখেছেন। জমি ফেরত চাইলে তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।’
তবে জহিরুল ইসলামের ভাই তোতা মিয়া চোকদার বলেন, ‘দুই শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে সালিশ বসিয়ে মনছুরের কাছ থেকে বায়না সূত্রে আমরা জমি কিনেছি। বায়নাপত্র করলেও আমাদের জমি দলিল করে দিচ্ছেন না মনছুর। আমার ভাই ওসি, কিন্তু আমরা কখনোই সেই প্রভাব খাটাইনি।’
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জাজিরার বিলাশপুরের বাসিন্দা মাসহুদা বেগমের জমি এক পুলিশ সদস্য ও তার পরিবার দখল করে রেখেছে বলে জানতে পেরেছি। পুলিশের কাছে অভিযোগটি এখনো আসেনি। অভিযোগ পেলে আমরা অনুসন্ধান করে দেখব।’
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘অভিযোগটি এখনো আমার হাতে এসে পৌঁছায়নি। তদন্ত করে সত্যতা পেলে অভিযোগের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
