ডিক্যাব টকে ইইউ রাষ্ট্রদূত

নির্বাচন নিয়ে তাড়া নেই, সংস্কার শেষ করা প্রয়োজন

আপডেট : ০৬ মে ২০২৫, ০৭:১৮ এএম

নির্বাচন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কোনো চাপ নেই জানিয়েছেন জোটটির রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তিনি বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন কখন হবে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের। তবে সংস্কারগুলো সম্পন্ন করা প্রয়োজন। কারণ টেকসই বাংলাদেশ নির্মাণে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত ‘ডিক্যাব টকে’ এসব কথা বলেন ২৭ দেশের জোটের এ রাষ্ট্রদূত। ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশডিকাব এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তিনি জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ড, দায়ীদের বিচার, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের বর্তমান আপৎকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এবং আগামীর নির্বাচন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আকাক্সক্ষাসহ সমসাময়িক নানা বিষয়ে কথা বলেন।

বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন কখন হতে পারে? উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ইইউ কী চায়? নির্বাচন কমিশন, সরকার এবং অন্য স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনায় ইইউ কী বুঝতে পেরেছে? এমন কয়েকটি প্রশ্নের জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশে কখন পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত সে বিষয়ে বাংলাদেশই সিদ্ধান্ত নেবে। তবে তার আগে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ হওয়া উচিত, কারণ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অকুণ্ঠ সমর্থন রয়েছে।’

মিলার বলেন, ‘রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে সংস্কার এখন বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।’ নির্বাচনের আগে সংস্কার চেয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এখানে আমি একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই, তা হলো নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের ওপর আমাদের (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) পক্ষ থেকে কোনো চাপ নেই।’ আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলো একত্রে কাজ করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন উন্নয়ন বন্ধু ইইউর রাষ্ট্রদূত।

সেইসঙ্গে তিনি জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিচার স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়ার আশা করেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সমর্থন করে ইইউ। এমন কাক্সিক্ষত নির্বাচনে সহায়তা দিতে আগ্রহী ইউরোপীয় ইউনিয়ন।’

রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়ে মাইকেল মিলার বলেন, ‘রোহিঙ্গারা রাখাইনে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমরা একটি রাজনৈতিক সমাধান চাই এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আমরা মিলিটারি কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি। আমরা ২০১৭ থেকে ৫০ কোটি ইউরোর মতো সহায়তা দিয়েছি। এখন সহায়তার পরিমাণ কমে আসছে এবং এজন্য আমরা রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করতে চাইছি।’

মানবিক করিডরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উদ্বাস্তুরা যে দেশেই থাকুক না কেন, আমরা তাদের সহায়তা করতে পারলে খুশি হব। যদি সীমান্তের ওপারে থাকে, তবে তাদের সহায়তা করার জন্য আমাদের একটি চ্যানেল লাগবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে মাইকেল মিলার বলেন, ‘ইউরোপে পাচার হওয়া অর্থ যদি বর্তমান বাংলাদেশ সরকার ফেরত আনতে চায়, তবে এ নিয়ে রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যথাযথ তথ্য-উপাত্ত নিয়ে যোগাযোগ করতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি শেষ হতে তিন-চার বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।’

ইইউর আমন্ত্রণে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন দলটির পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের ব্রাসেলস সফর বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, ‘দলটির আগ্রহে আমরা জামায়াতের প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। বিএনপি, এনসিপি বা অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের হেডকোয়ার্টারের দরজা ওপেন। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলগুলোর মতামত এবং জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আমরা স্ব স্ব দলের ভাষ্য শুনতে আগ্রহী।’

নারী সংস্কার কমিশন নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এটি একান্তই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে হ্যাঁ, আমরা নারী-পুরুষ সমান অধিকারে বিশ্বাসী, দুনিয়া জুড়ে এটি আমরা প্রমোট করি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের নারীদের উন্নয়ন ও অগ্রগতি দেখতে চাই আমরা।’

বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি হবে মৌলিক অধিকার ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার জীবদ্দশায় ইউরোপের প্রায় অর্ধেক দেশ কর্র্তৃত্ববাদ থেকে গণতন্ত্রের পথে এসেছে এবং এই কাজটি বাংলাদেশ এখন করছে।’

ডিকাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মামুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত