টেক্সটাইল শিল্পের ওপর দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির উন্নয়ন বহুলাংশে নির্ভরশীল এবং এই খাতে সরকারি প্রণোদনা বৃদ্ধি করা উচিত বলে জানিয়েছে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের বৃহত্তর পেশাজীবী সংগঠন ‘দি ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস’ (আইটিইটি)। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশে আসন্ন বাজেট উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন সংগঠনটির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাক-বাজেট আলোচনা ও প্রস্তাবনাসমূহ পাঠ করেন আইটিইটি-এর সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. এনায়েত হোসেন। তিনি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বস্ত্রশিল্প খাতকে উল্লেখ করেন। এ সময়, টেক্সটাইল খাতকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে এই শিল্পের প্রসারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৪টি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
সেগুলো হলো- গ্যাস ও জ্বালানির বাধাহীন সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজনে পেট্রোবাংলাকে ভর্তুকি প্রদান; রপ্তানিতে মন্দা ভাব ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিযোগিতার বাণিজ্য টিকে থাকতে রপ্তানির ওপর শুল্ক কমিয়ে ০.২৫% নির্ধারণ; টাকা পাচার রোধ এবং দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনা বাধায় অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ; বস্ত্রশিল্পে বিদেশিদের সর্বপ্রকার অপ্রয়োজনীয় নিয়োগ বন্ধ; ব্যাংক সুদের হার সর্বোচ্চ ১০% করে অন্যান্য ব্যাংকিং চার্জ কমিয়ে সহনীয় মাত্রায় আনা; খুচরা যন্ত্রাংশ ও ডাইস কেমিক্যাল আমদানিতে বিদ্যমান কর রহিত করা ও আমদানির জন্য জটিল ট্যারিফ কাঠামো বাতিল করে একটি ফ্লাট ফ্লাইট চালু করা; বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার সমাধান ও টেক্সটাইল শিক্ষা ও গবেষণার কাজে বিশেষ বরাদ্দ; বন্ডের ওয়্যার হাউজের নীতিমালার পরিবর্তন করা; কার্বনের মাত্রা ৪২% এ নামিয়ে আনতে সোলার প্যানেল আমদানির ক্ষেত্রে ট্যাক্স হলিডের আওতায় আনা; শিল্প মূল্যায়নের জন্য ট্রাস্ট ফোর্স গঠন; বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসগুলোতে কমার্শিয়াল উইং এ ন্যূনতম একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দেওয়া এবং ডাইস-কেমিক্যাল ও মেশিন ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করার দাবি জানাচ্ছি।
ইঞ্জিনিয়ার এনায়েত হোসেন বলেন, টেক্সটাইল শিল্পের ওপরই আমাদের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির উন্নয়ন বহুলাংশে নির্ভরশীল। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বর্তমানে ২-৫ ভাগ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। যেখানে ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে শতকরা ২৫ ভাগ হারে এই সহায়তা দেওয়া হতো। বর্তমানে দেশজ রপ্তানির ৮৪% রপ্তানি করে শুধু পোশাক খাত থেকে। গত ২৩-২৪ অর্থবছরে একদিকে শ্রমিক অসন্তোষ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ঘাটতি, অনিয়মিতভাবে গ্যাস সরবরাহ, অন্যদিকে হঠাৎ করে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। এর ফলে টেক্সটাইল শিল্প কারখানাগুলোকে চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দি ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি), বাংলাদেশের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এহসানুল করিম কায়সার ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার এনায়েত হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
