ফুটবল মৌসুম শেষ হওয়ার পথে। ছয় মাসের বেশি কেটে গেছে নতুন কমিটি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের দায়িত্ব নিয়েছে। তবে কেন যেন গুরুত্বপূর্ণ ডিসিপ্লিনারি কমিটিটিই পূর্ণাঙ্গ রূপে করা হয়নি। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের বিভিন্ন ম্যাচে যখন ঘটছে নানা অখেলোয়াড়সুলভ ঘটনা, তখনই বাফুফে কর্তারা নড়ে চড়ে বসে গঠন করে ডিসিপ্লিনারি কমিটি। বাফুফের বেশ কয়েকটি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করা মেজবাহ উদ্দিনকে করা হয়েছে কমিটির চেয়ারম্যান। সেই কমিটি বুধবার বৈঠকে বসে এক গাদা শাস্তি ও জরিমানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শৃঙ্খলাভঙ্গের শাস্তির কবলে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, দর্শকরা যেমন আছেন, ক্লাবগুলোকেও করা হয়েছে জরিমানা। আর বেশিরভাগ সিদ্ধান্তই এসেছে লিগের সেরা তিন ক্লাব মোহামেডান, আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে।
ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভা দুদিন আগে হলেও বাফুফে সিদ্ধান্তগুলো সংবাদ মাধ্যমে লিখিত আকারে দিয়েছে শুক্রবার বিকেলে। তিন পৃষ্ঠার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মোট ১৩টি সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ আকারে দিয়েছে কমিটি। এর মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু ম্যাচে ঘটে যাওয়া নানা নিয়ম বহির্ভুত ঘটনার ব্যাপারে তাদের সিদ্ধান্ত। ২ মে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বসুন্ধরা ও আবাহনীর ম্যাচে হয়েছিল অনেক গণ্ডগোল। সে ম্যাচে বসুন্ধরা কিংসের সহকারী কোচ মাহবুব হোসেন রক্সি অশোভন অঙ্গভঙ্গি করেছিলেন প্রতিপক্ষ ডাগআউটের কোচ-কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে। এছাড়া মেজাজ হারিয়ে বারবার মাঠে প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তাই তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং তার ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগ পর্যন্ত বাফুফের সকল আয়োজনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত করা হয়েছে। একই ম্যাচে শেষ মুহূর্তে লাল কার্ড দেখা এবং ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর অবৈধভাবে মাঠে প্রবেশ করে ম্যাচ কমিশনারের সঙ্গে বাকবিতন্ডা ও এক পর্যায়ে ম্যাচ কমিশনারকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার সাদউদ্দিনের বিরুদ্ধে। ডিসিপ্লিনারি কমিটি তাকেও কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া ও তার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া পর্যন্ড বাফুফের সকল প্রকার প্রতিযোগিতায় খেলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। সেই ম্যাচে সাদউদ্দিনের সঙ্গে একই ঘটনায় লালকার্ড দেখেছিলেন বসুন্ধরা কিংসের মিডফিল্ডার সোহেল রানা ও আবাহনীর মিডফিল্ডার শাহীন আহমেদ। এ দুজনকে পরবর্তী দুই ম্যাচে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই ম্যাচে বসুন্ধরা কিংসের সাপোর্টিং স্টাফ তামিম শিকারীকে নিয়ম বহির্ভূত কর্মকান্ডের অভিযোগে আগামী ছয় মাসের জন্য স্টেডিয়ামে নিষিদ্ধ ও ২৫ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। সেই ম্যাচে রেফারির অনুমতি না নিয়ে মাঠে প্রবেশ করার অভিযোগ আনা হয়েছে বসুন্ধরার ম্যানেজার ওয়াসিমুজ্জামানের বিরুদ্ধে। তাকে অবশ্য ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দিয়েছে কমিটি। এদিকে ২ মে ম্যাচে বসুন্ধরা ও আবাহনীর দর্শকদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে দুই ক্লাবকে ১ লাখ টাকা করে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় বারবার দর্শক, সমর্থকদের মধ্যে এরকম ঘটনা ঘটায় কেন লিগের পরের ম্যাচগুলো দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হবে না, এ মর্মে বাফুফে সচিবালয় বরাবর লিখিত বক্তব্য জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বসুন্ধরা কিংসকে।
১২ এপ্রিল বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত বসুন্ধরা বনাম মোহামেডান ম্যাচেও ঘটেছে নানা ঘটনা। সেই ম্যাচে মোহামেডানের সমর্থকদের নিয়ম বহির্ভূত আচরণ আমলে এনে ডিসিপ্লিনারি কমিটি ক্লাবটিকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা ও ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করেছে। একই অভিযোগে সেই ম্যাচের জন্য বসুন্ধরা কিংসকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ২৬ এপ্রিল কুমিল্লার ভাষা সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আবাহনী ও মোহামেডানের ম্যাচে মোহামেডানের দর্শকদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে ক্লাবটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই মাঠে ২ মে মোহামেডান ও বাংলাদেশ পুলিশ এফসি ম্যাচে মারামারির ঘটনায় মোহামেডানের ফরোয়ার্ড ইমানুয়েল সানডে ও গোলকিপার সুজন হোসেনকে এবং পুলিশের দানিলো আগুস্তো ও মান্নাফ রাব্বিকে কঠোরভাবে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি। সেদিন ম্যাচ শেষে মোহামেডানের স্থায়ী কমিটির সদস্য আওলাদ হোসেন অবৈধভাবে মাঠে প্রবেশ করে প্রতিপক্ষ পুলিশ এফসির এক খেলোয়াড়ের ওপর চড়াও হয়েছিলেন। সেই অভিযোগে পরবর্তী ১ বছরের জন্য তাকে স্টেডিয়ামে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় ক্লাবকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সকল সিদ্ধান্ত শুক্রবার শুরু হওয়া লিগের ১৪তম রাউন্ড থেকেই কার্যকর হয়েছে।
মালদ্বীপের বিপক্ষে ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো যুবাদের
মোহামেডান ও বসুন্ধরার ড্র, রেফারি বদলে দেরিতে খেলা শুরু ময়মনসিংহে