পেশাদার যুগে প্রথম লিগ জয়ের অপেক্ষাটা বাড়ছে মোহামেডানের। শুক্রবার তারা ১-১ গোলে ড্র করেছে ফর্টিস ফুটবল ক্লাবের সঙ্গে। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় প্রথমে পিছিয়ে পড়া মোহামেডান হার এড়িয়েছে বদলি ফরোয়ার্ড মাহবুব হোসেনের এক অসাধারণ গোলে। পয়েন্ট খুইয়ে শিরোপা রেসে আরও পিছিয়ে পড়েছে বসুন্ধরা কিংস। ঘরের মাঠ মুন্সীগঞ্জে শেষ পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের থামিয়ে দিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন, ম্যাচটা শেষ হয়েছে গোলশূন্য ড্রয়ে। ময়মনসিংহে লিগের অন্য ম্যাচে ২-১ গোলের জয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর অবনমন অনেকটাই নিশ্চিত করেছে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স।
১৪ ম্যাচে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে মোহামেডান আছে পয়েন্ট টেবিলের সবার ওপরে। শুক্রবার জিতলে তারা তিনে থাকা বসুন্ধরা কিংসের শিরোপা স্বপ্ন শেষ করে দিতে পারত। সেটা তো পারেইনি, বরং বদলি মাহবুব বিশ্বমানের গোলটা না করলে হারের লজ্জা সঙ্গী হতো সাদা-কালোদের। এক ম্যাচ কম খেলা আবাহনীর চেয়ে মোহামেডান এগিয়ে ৮ পয়েন্টে। আজ আবাহনী ব্যবধান কমিয়ে আনতে পারবে পুলিশকে হারালে। আর বসুন্ধরা আগের ম্যাচে আবাহনীকে হারালেও ব্রাদার্সে আটকে গেছে প্রথম পর্বের মতো। সেবার ১-১ গোলে ড্র করেছিল দুদল। এই ড্রয়ে শেষ পাঁচবারের লিগজয়ীদের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন আরও ম্লান হয়েছে। ১৪ ম্যাচ থেকে তাদের সংগ্রহ ২৫ পয়েন্ট।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা গেছে ফর্টিসকে। ২২ মিনিটে এগিয়ে যায় তারা। দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জালো প্রচেষ্টা লক্ষ্যে না থাকলেও চলে আসে বক্সে থাকা পিয়াস আহমেদ নোভার কাছে। ডান পায়ের ভলিতে মোহামেডান কিপার সাকিব আল হাসানকে পরাস্ত করেন তরুণ এই স্ট্রাইকার। বিরতি থেকে ফিরেও মোহামেডান ছিল অস্বস্তিতে। ৭২ মিনিটে মোহামেডান শিবিরে স্বস্তি ফেরান বদলি মাহবুব। বক্সের অনেক বাইরে বল পেয়ে এই ডিফেন্ডার লক্ষ্যে শট নিয়েছিলেন। যা ফর্টিসের কিপারকে সুযোগ না দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই এক পয়েন্ট নিশ্চিত হয় মোহামেডানের।
এদিকে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন লিগের ১৪ তম রাউন্ড মাঠে গড়াতে পেরেছে আন্দোলনরত রেফারিদের সিদ্ধান্ত বদলে। বকেয়া প্রাপ্য আদায়ে বাধ্য হয়েই রেফারিরা ‘নো বিল নো গেম’ আন্দোলন শুরু করেছিলেন। শুক্রবার বাফুফে কর্তারা শুরুতে চেয়েছিলেন ‘নরম-গরম’ কথায় রেফারিদের মাঠে ফিরতে বাধ্য করতে। তাতে কাজ না হওয়ায় আগামী সোম কিংবা মঙ্গ লবারের মধ্যে বকেয়া কিছু অংশ পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়। তাতেই কাজ হয়। কঠোর অবস্থান থেকে আপাতত সরে এসে রেফারিরা মাঠে ফেরেন। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বাফুফে রেফারিদের ১৬ লাখ টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করে। তবে সে টাকা এখনো রেফারিরা পাননি। তিনদিন বন্ধ শেষে সেই টাকা মিলবে। এছাড়াও বাফুফে আরও ১৫ লাখ টাকা আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। রেফারিরা প্রায় ২ কোটি টাকা পান বাফুফের কাছ থেকে।
