আইপিএলের বাকি অংশ সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডে আয়োজনের প্রস্তাব

আপডেট : ১০ মে ২০২৫, ০১:৫০ পিএম

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় স্থগিত হয়ে গেছে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক আসর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। শুক্রবার পাঞ্জাব কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের মধ্যকার ম্যাচ চলাকালীন সামরিক হস্তক্ষেপের কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এক সপ্তাহের জন্য আইপিএল স্থগিতের ঘোষণা দেয়। তবে পরিস্থিতির জটিলতায় আসরের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।

এমন অবস্থায় ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে আইপিএলের বাকি ম্যাচগুলো ইংল্যান্ডে আয়োজন করার সুযোগ থাকলে তারা সেটি বিবেচনায় নিতে পারে। ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গুল্ড বিষয়টি নিয়ে বিসিসিআইয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

বর্তমানে আইপিএলে মোট ৫৮টি ম্যাচ সম্পন্ন হয়েছে, বাকি আছে ১২টি গ্রুপ পর্ব ও ৪টি প্লে–অফ ম্যাচ। বিদেশি ক্রিকেটারদের অনেকে এরই মধ্যে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন। ইংল্যান্ডের ১০ জন ক্রিকেটার আইপিএলে অংশ নিচ্ছিলেন, যাদের সবারই দেশে ফেরার কথা রয়েছে এই সপ্তাহান্তে।

ধর্মশালার সামরিক ঘাঁটির কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠার পর বৃহস্পতিবার রাতের ম্যাচটি মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তা সতর্কতায় মাঠের ফ্লাডলাইট বন্ধ করে দর্শকদের বের করে দেওয়া হয়। প্যাড পরে থাকা খেলোয়াড়দেরও দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভারতের অন্তত ২৭টি বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে।

ইতিমধ্যে পাকিস্তান সুপার লিগও স্থগিত হয়েছে। পিএসএলের শেষ ৮টি ম্যাচ সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, আমিরাত বোর্ড পরে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে। পিটিআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত বোর্ড পাকিস্তানকে সহায়তা করলে তা ভারতের দৃষ্টিতে নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, এই আশঙ্কা থেকেই তারা পিএসএল আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এটাই প্রথম নয়—আইপিএল অতীতে চারবার ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০০৯ সালে ভারতের জাতীয় নির্বাচনের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকায়। ২০১৪ সালে প্রথম ২০টি ম্যাচ হয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ২০২০ সালে কোভিডের কারণে পুরো আসর হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ২০২১ সালে মাঝপথে স্থগিত হওয়া আসর শেষ হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

তবে এবার পরিস্থিতি আরও জটিল। বিসিসিআইয়ের সেক্রেটারি দেবজিত সাইকিয়া বলেছেন, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি, সম্প্রচারকারী, স্পনসর এবং সমর্থকদের উদ্বেগ ও পরামর্শ বিবেচনায় নিয়েই আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নতুন সূচি ও ভেন্যু নিয়ে পরে জানানো হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত