আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট ও সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট বন্ধে বিটিআরসিকে চিঠি

আপডেট : ১৪ মে ২০২৫, ০১:১৯ পিএম

আওয়ামী লীগ এবং দলটির অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট (ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, টেলিগ্রাম ও এক্স–সাবেক টুইটার) বন্ধে সরকার আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) এসব প্ল্যাটফর্ম ‘ব্লক’ করার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দিয়েছে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি।

আজ মঙ্গলবার চিঠিটি পাঠানো হয় বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

এর আগে, গত সোমবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগ ও তার অধীনস্থ সকল সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। বিচারাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানানো হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রকাশিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আওয়ামী লীগসহ সব অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, মিছিল, সমাবেশ, সভা-সেমিনার, সম্মেলনসহ সব ধরনের কর্মসূচি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একই দিন নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে।

জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি এবং বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, সরকারের সিদ্ধান্ত ও প্রচলিত আইনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে দলের অ্যাকাউন্টগুলোর লিংক ব্লক করতে শিগগিরই চিঠি পাঠানো হবে।

এ প্রসঙ্গে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘প্রজ্ঞাপন জারির পর সেই রেফারেন্সে বিটিআরসির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সামাজিক মাধ্যমগুলোকে চিঠি দিয়ে অ্যাকাউন্ট ব্লকের অনুরোধ জানানো হবে।’

তবে সরকার চাইলেই সব প্ল্যাটফর্মে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার কেবল ওয়েবসাইট ব্লক করতে পারে। ফেসবুকের মেটা ও গুগলের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে কনটেন্ট অপসারণ কিংবা পেজ বন্ধের অনুরোধ করতে হয়। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব গাইডলাইন অনুযায়ী বিষয়গুলো যাচাই করে পদক্ষেপ নেয়।’

মেটার প্রকাশিত সর্বশেষ স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিটিআরসির অনুরোধে বাংলাদেশে মোট ২ হাজার ৯৪০টি কনটেন্টে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গুগলের স্বচ্ছতা প্রতিবেদন বলছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে গুগলের কাছে কনটেন্ট সরানোর ৪৯০টি অনুরোধ পাঠানো হয়, যার আওতায় মোট ৫ হাজার ৮২৭টি আইটেম ছিল। এর মধ্যে প্রথম ছয় মাসে ৩৩৭টি অনুরোধ করা হয়। গুগল ওই সময় ৬৮.২ শতাংশ অনুরোধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আর পরবর্তী ছয় মাসে ব্যবস্থা না নেওয়ার হার ছিল ৪৫.৮ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত