বাংলাদেশি প্রবাসীদের সংকট

আপডেট : ১৫ মে ২০২৫, ১২:৪১ এএম

‘দেশ রূপান্তর’ পত্রিকার ষষ্ঠ বর্ষপূর্তিতে কানাডা থেকে এই লেখা যখন লিখছি, তখন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছেন যেখানে অর্ধেকেরও বেশি নতুন মুখের সম্ভাবনা রয়েছে। সুদূর কানাডা থেকে ‘দেশ রূপান্তর’ পত্রিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি শুভেচ্ছা সেই সঙ্গে শুভেচ্ছা কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির মন্ত্রিসভাকে। কানাডাকে মাল্টিকালচারিজমের দেশ বলা হয়। কানাডাই বিশ্বের প্রথম মাল্টিকালচারিজমের দেশ হিসেবে নিজেদের ঘোষণা দেয়। যার মূলমন্ত্র সব নাগরিকের থাকবে সমান অধিকার ও দায়িত্ব। যার ফলে দেশটির জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত ২০ মিলিয়নের বেশি লোক অভিবাসী হয়ে দেশটিতে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। শান্তি রক্ষায় দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

আয়তনের দিক থেকে কানাডা ৯ হাজার ৯৮৫ মিলিয়ন কিলোমিটার হলেও জনসংখ্যা মাত্র ৪০ মিলিয়ন। যার রয়েছে ১০টি প্রভিন্স এবং ৩টি টেরিটোরিজ। কানাডার ইমিগ্রেশন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় সাড়ে ৩ লাখ থেকে চার লাখ অভিবাসনপ্রত্যাশী পাড়ি দেয় কানাডায়। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে কানাডার বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, শিক্ষাব্যবস্থা, চিকিৎসা যোগাযোগব্যবস্থা, জীবনের নিরাপত্তা, স্থিতিশীল অর্থনীতি, শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থার কারণে দেশ হিসেবে বিশ্বের সবার কাছে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি ৫৫ লাখ মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী জীবনযাপন করছেন। এর মধ্যে কানাডায় লক্ষাধিকের ওপরে প্রবাসী বাংলাদেশি স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। বর্তমানে দেশটিতে সুদের হার বৃদ্ধি, আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, নাগরিকদের শূন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সব মিলিয়ে কঠিন অবস্থায় কানাডার অর্থনীতি। লাখেরও বেশি বাংলাদেশি এর বাইরে নয়।

২০০৮ সালের পর ব্যাংক ঋণে সুদের হার বাড়িয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে ব্যাংক অব কানাডা। আয় বাড়েনি, তবে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েই চলেছে। সুদের হার ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রবাসীদের মধ্যেও বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। নিম্নবিত্তের জন্য চালু করা ফুড ব্যাংকে দীর্ঘ হচ্ছে লাইন।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ সতর্ক করে বলেছে, জি-সেভেনের দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ভালো হলেও কানাডা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আর্থিক মন্দা থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় নানা পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার। এর মধ্যে সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করা, সহজলভ্য চাইল্ডকেয়ার, জিএসটি রিবেট, রেন্টাল সাপোর্ট ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ডেন্টাল কেয়ার সহায়তা। কানাডার সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির তুলনায় খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে নাগরিকদের অস্বস্তির শেষ নেই। দিন দিন খাদ্যদ্রব্যর মূল্য বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে সাধারণ নাগরিকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

অন্যদিকে গত ৯ মে, ‘ব্লুমবার্গ’র তথ্য অনুযায়ী, দেশটির কর্মসংস্থানের ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বেকারত্ব বেড়েছে ৬.৯%, অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণে ব্যাপকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে দেশটি।

সূত্রমতে, কানাডায় গত মাসে মাত্র ৭,৪০০টি নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে, যা বাজারের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। এর ফলে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৯ শতাংশে, যা মহামারীর সময় বাদ দিলে ২০১৭ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ।

অর্থনৈতিক ও নীতিগত ইঙ্গিতে বলা হয়েছে, শ্রমবাজারে দুর্বলতা, চাকরির ধীর প্রবৃদ্ধি শ্রমবাজারে আস্থাহীনতা তৈরি করছে। নিয়োগে মন্থরতা বোঝাচ্ছে ব্যবসা ও উৎপাদন খাতে অনিশ্চয়তা।

মুদ্রানীতির দিক থেকে প্রভাব পড়েছে, ফলে কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগেই উচ্চ সুদের হার কার্যকর করেছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে। তবে বেকারত্ব বাড়লে সুদের হার কমানোর চাপ বাড়বে। বর্তমানে সুদ কমালে মূল্যস্ফীতি আবার বাড়তে পারে একটি নীতিগত দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে অভিবাসননীতির প্রভাবে দেশটি উচ্চ অভিবাসন প্রবাহ ধরে রেখেছে, যা শ্রমবাজারে চাপ তৈরি করছে। অন্যদিকে অভিবাসীদের জন্য উপযুক্ত চাকরি না থাকলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাজস্ব নীতিতে ফেডারেল সরকারকে হয়তো চাহিদা উদ্দীপনায় নির্ভর করতে হতে পারে। এ ছাড়াও বেকারত্ব কমাতে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাড়ানোর চিন্তা করছে অটোয়া। এই পরিস্থিতিতে কানাডার অর্থনীতি এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে একদিকে বেকারত্ব বাড়ছে, অন্যদিকে মুদ্রানীতি ও অভিবাসননীতির ভারসাম্য রক্ষা করাও জরুরি হয়ে উঠেছে।

কানাডায় দিন দিন আবাসন সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে চলেছে। বাংকের সুদের হার বৃদ্ধির ফলে বাড়ি ‘ভাড়া’র ওপরে চাপ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। নতুন আসা অভিবাসীরা আবাসনের সংকটে হিমশিম খাচ্ছে, যার মধ্যে প্রবাসী বাঙালিরাও রয়েছে। আবাসন সমস্যা ও বাড়ি ভাড়া বুদ্ধির ফলে দেশটির শক্তিশালী অর্থনীতি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়বে দেশটি এমন আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

অন্যদিকে অভিবাসী নির্ভর কানাডা থেকে দিন দিন অভিবাসীদের মধ্যে কানাডা থেকে চলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। সম্প্রতি দেশটির নতুন এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসী দেশটি ছেড়ে চলে গেছে। এর মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। ইনস্টিটিউট ফর কানাডিয়ান সিটিজেনশিপ এবং কানাডার কনফারেন্স বোর্ডের পরিচালিত সমীক্ষা বলছে, কানাডা ছেড়ে যাওয়া অভিবাসীদের সংখ্যা গত কয়েক দশক ধরে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গড়ে দশমিক ৯ শতাংশ লোক যাদের ১৯৮২ সালে বা তার পরে দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল তারা প্রতি বছর কানাডা ছেড়ে যাচ্ছে। ২০১৯ সালে তা বেড়ে ১ দশমিক ১৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতিকে উন্নত করার উপায় হিসেবে নতুনদের ধরে রাখা এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণ না করার সম্ভাব্য পরিণতিগুলোর ওপর সরকারের জোর দেওয়া প্রয়োজন।

কানাডিয়ান সিটিজেনশিপের ইনস্টিটিউটের সিইও ড্যানিয়েল বার্নহার্ড বলেছেন, ‘কানাডা যেহেতু আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে তীব্র ঘাটতি পূরণের জন্য অভিবাসীদের ওপর বেশি বেশি নির্ভর করে, সেহেতু তাদের ধরে রাখার ক্ষমতা আমাদের জাতীয় স্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে।’ সমীক্ষা অনুযায়ী, কানাডায় আগমনের চার থেকে সাত বছরের মধ্যে অগ্রবর্তী অভিবাসনের ঝুঁকি বিশেষভাবে বেশি। আরও বলা হয়েছে , অভিবাসীদের দেশ ছেড়ে যাওয়ার প্রবণতা ১৯৯০-এর দশক থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রবাসী আয় উপার্জনে বিশ্বে সপ্তম স্থানে। দক্ষিণ এশিয়াতে শুধু ভারত ও পাকিস্তানের প্রবাসী আয় বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশে প্রবাসী আয় বেশি আসে সৌদি আরব, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও কুয়েত থেকে। তারা দেশে যেমন প্রবাসী আয় পাঠাচ্ছেন তেমনি বিদেশেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন তাদের কাজ দিয়ে।

বাংলাদেশের শ্রমবাজারে শ্রমশক্তির চাহিদা ও জোগানের সমন্বয়হীনতার কারণে প্রবাসের শ্রমবাজার আমাদের শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রস্থল হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। একদিকে যেমন প্রবাসী শ্রমিকদের আয় সামষ্টিক অর্থনীতির ভিতকে শক্তিশালী করছে, অন্যদিকে তাদের পাঠানো অর্থ দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা, শিশুর পুষ্টি ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

বাংলাদেশ এখন আর বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীল কোনো দেশ নয়। এর একটা বড় কারণ প্রবাসী আয়। সারা বিশ্ব মিলে বাংলাদেশকে এখন যে পরিমাণ ঋণ বা অনুদান দিচ্ছে বা সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) যে অর্থ আসছে তার চেয়ে ছয় থেকে দশ গুণ পর্যন্ত বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা।

প্রবাসী আয় দেশের বড় একটা চালিকাশক্তি। বিশ্বব্যাপী যখন অর্থনৈতিক মন্দা ছিল তখন প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের কারণে বাংলাদেশকে কোনো সংকটে পড়তে হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় ছিল জিডিপি-এর ৪.৫৬ শতাংশ, মোট রপ্তানি আয়ের ৪২.৭১ শতাংশ এবং মোট আমদানি ব্যয় পরিশোধের ২৫.৪৯ শতাংশ। প্রবাসী আয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখে, ব্যালেন্স অব পেমেন্টের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায়, জাতীয় সঞ্চয় বাড়ায় এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার নির্ধারণে (ভেলসিটি অব মানি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রায় ৮০ শতাংশই থাকে মধ্যপ্রাচ্যে। এককভাবে শুধু সৌদি আরবেই আছেন ২১-২২ লাখ বাংলাদেশি। আরব আমিরাতে আছেন অন্তত প্রায় ১৬ লাখ। এ ছাড়া কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইনের গড়ে তিন থেকে চার লাখ বাংলাদেশি আছেন। আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিগ্রহের প্রভাব জ্বালানি তেলের দামসহ বিভিন্ন বিষয় মিলে মধ্যপ্রাচ্যে নানা সংকট তৈরি হয়েছে প্রবাসীদের মাঝে। অন্যদিকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশিরাও একইভাবে নানা সংকটে রয়েছেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী যারা মূলত নিজ খরচে পড়াশোনা করার জন্য বিদেশে পাড়ি জমান তারাও বিভিন্ন সংকটের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। কেউ কেউ সংকটে আছেন তাদের পরবর্তী সেমিস্টারের টিউশন ফি পরিশোধ নিয়ে, কেউবা আবার চিন্তিত টেম্পোরারি রেসিডেন্ট পারমিট রিনিউ করা নিয়ে।

আমেরিকা, কানাডা ও ইউরোপের মতো অনেক দেশেই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এখনো অনেকে পুরোভাবে পার্টটাইম চাকরিতে ফিরতে পারেননি এবং বাংলাদেশের ব্যাংকিং পলিসির কারণে দেশের থেকেও সেভাবে টাকা আনা সম্ভব হয় না।  তাই অনেকে অর্থনৈতিকভাবে চরম দুর্দশার মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছেন। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থা, অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বিদেশ জীবন।

অন্যদিকে সম্প্রতি বিদেশি শিক্ষার্থীদের কানাডায় প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটির সরকার। বর্তমানে যেসব শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করে দেশটিতে অবস্থান করছেন, তাদেরও কাজের অনুমোদনপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) দেওয়া হচ্ছে না। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করছে। এর মধ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীও রয়েছে।

বিদেশে অনেক প্রবাসী কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করলেও, বলছেন না স্বজনদের। অনেকেই দেশের পরিবারের সদস্যদের চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। দেশের জায়গাজমি বিক্রি করে বিদেশে পাড়ি জমালেও দালালদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে ফেলছে অনেকে। এতকিছুর পরও বাংলাদেশকে হৃদয়ে ধারণ করে প্রবাসীরা। বিদেশের মাটিতে নিজ দেশের পতাকাকে সমুন্নত রেখে একটাই তাদের চাওয়া ভালো থাকুক দেশের স্বজনরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত